নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাহায্য চেয়েছিলেন বন্ধু রাষ্ট্রগুলির কাছেও। কিন্তু সেই আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি। এখনও ওই প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল থমকে রয়েছে ইরানের আপত্তিতে। তাই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ পেতে এবার ২,২০০ কেজি ওজনের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমার সাহায্য নিল মার্কিন সেনা। প্রণালী সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ উপকূল বরাবর চলেছে একাধিক ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ হামলা। বুধবার সকালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থিত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলিকে টার্গেট করেই বোমা নিক্ষেপ করা হয়। কারণ, সেখান থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া হচ্ছিল। এদিনের সফল অভিযানে ওই কেন্দ্রগুলি গুঁড়িয়ে গিয়েছে। গত বছর ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের সময়ও তেহরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে ওই বোমা ফেলেছিল আমেরিকা।
চলতি ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই অন্তত ২০০ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে এদিন দাবি করেছে তেহরান। সেদেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদসংস্থা ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা আহত। এছাড়া আমেরিকার ১৫০টি মিসাইল প্ল্যাটফর্ম, ২৩টি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ৩৭টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এরপরেও অবশ্য যুদ্ধ থামাতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধ দারুণ এগচ্ছে। ওদের যা ক্ষতি হয়েছে, তা নতুন করে তৈরি করতে দশ বছর সময় লাগবে। কিন্তু আরও কিছু স্থায়ী ক্ষতি করতে হবে, যাতে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এসবের মধ্যে দিয়ে যেতে না হয়।’
ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে হামলা চালাতেই হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইরান। এর জেরে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার দাবি, তারা হরমুজকে মুক্ত করবেই। সামরিক জোট ‘ন্যাটো’ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন সামরিক অভিযানের অংশ হতে চায় না। তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘হরমুজ উন্মুক্ত করতে আমেরিকাকে সাহায্য না করে ন্যাটো বোকার মতো ভুল করছে। কেউ সাহায্য না করলেও ওয়াশিংটনের সমস্যা হবে না।’ আর তারপরেই হরমুজের কাছে বাঙ্কার-বাস্টার ব্যবহার করল মার্কিন সেনা।