ওয়াশিংটন: কৌশলগত বন্ধু ভারতকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই সুযোগে আরও কাছাকাছি আসছে মস্কো ও দিল্লি। ভারতের মতো বন্ধুকে হারানোর দায় নিতে হবে প্রেসিডেন্টকেই। এই ভাষাতেই এবার ট্রাম্প প্রশাসনকে তুলোধোনা করলেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য সিডনি কামলেগের-ডাভ। তাঁর মতে, ট্রাম্পের নীতি শুধু দিল্লিকে দূরে সরাচ্ছে না, ‘শত্রু দেশ’ রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। গত সপ্তাহে ভারত সফরে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই গাড়ি করে তাঁদের ঘুরে বেড়ানোর ছবি চোখ এড়ায়নি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের। সেই ছবি তুলে ধরেই বুধবার মার্কিন বিদেশ দপ্তরের দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সাব কমিটির সামনে নিজের বক্তব্য পেশ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার মহিলা ডেমোক্র্যাট সদস্য সিডনি। চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি বলেন, ‘এই ছবিই হাজার হাজার কথা বলে দিচ্ছে।’
কয়েকদিন আগেই স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্ক বলেছিলেন, আমেরিকার অগ্রগতিতে ভারতীয়দের অবদান অনেক। অথচ চলতি মেয়াদে ট্রাম্পের নীতি কেবলই ভারতকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এই অবস্থায় দিল্লির মতো বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারানো যে ভালো কাজ হচ্ছে না, তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন সিডনি। ভারতীয় পণ্যের উপর সর্বাধিক ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া এইচ-১বি ভিসার খরচ ১ লক্ষ ডলার করা হয়েছে। কিন্তু কেন ভারতের প্রতি খড়্গহস্ত ট্রাম্প? আসলে বারবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য নিজেই নিজেকে তদ্বির করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্বও দাবি করেছেন। সেই দাবিকে মান্যতা দেয়নি ভারত। এরপরেই ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী একের পর এক সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সিডনি বলেন, ‘ভারতের প্রতি ট্রাম্পের বিদ্বেষ নিয়ে যখন ইতিহাস বই লেখা হবে, তাতে বলা হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের সঙ্গে এর কোনও যোগ ছিল না। নোবেল পুরস্কারের প্রতি প্রেসিডেন্টের হাস্যকর রকমের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাই এই ক্ষতির কারণ।’
তবে ক্ষতিটা শুধু ভারতের মতো বন্ধুকে হারনোতেই সীমাবদ্ধ নেই। সিডনির মতে, বন্ধু দেশগুলির প্রতি আমেরিকার অবস্থান নিয়ে খারাপ বার্তা যাবে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য আটকাতে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারতকে নিয়ে আমেরিকা যে কোয়াড গঠন করেছিল, সেটির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।