নয়াদিল্লি: বক্ষদেশ স্পর্শ বা পাজামার দড়ি খোলাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসাবেই গণ্য করা হবে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত রায় খারিজ করে এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানিয়েছে, যৌন অপরাধের মামলার বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। শীর্ষ আদালত যে হাইকোর্টের সঙ্গে সহমত পোষণ করে না, তাও স্পষ্ট করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, আদালত যদি মামলাকারীদের প্রতি সংবেদনশীল না হয়, তাহলে ন্যায়বিচার প্রদান করা যায় না।
বিতর্কের সূত্রপাত ১১ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা ঘিরে। ওই কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল পবন ও আকাশ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। ওই কিশোরীকে একটি কালভার্টের নীচে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু ধরা পড়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা চম্পট দেয়। আদালতে আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা নির্যাতিতার বক্ষদেশ স্পর্শ করে। তার পাজামার দড়ি খোলারও চেষ্টা করে। নিম্ন আদালত এই মামলায় পকসো আইনের ৩৭৬ নম্বর ধারা (ধর্ষণ) ও ১৮ নম্বর (যৌন হেনস্থা) ধারা প্রয়োগ করে। যদিও হাইকোর্ট তা কিছুটা লঘু করে অভিযুক্তদের ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪-বি (পোশাক খুলে ফেলার জন্য বলপ্রয়োগ) ধারায় বিচারের নির্দেশ দেয়। সঙ্গে পকসোর ৯ ও ১০ ধারায় (তীব্র যৌন নির্যাতন) বিচারের কথাও বলা হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র তাঁর রায়ে জানান, ওই কিশোরীর পাজামার দড়ি খোলার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা। কিন্তু এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি, যা থেকে বোঝা যায়, অভিযুক্তরা ধর্ষণ করতে যাচ্ছিল।
হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্টে। হাইকোর্টের ওই রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ওই রায়ে ‘সম্পূর্ণ সংবেদশীলতার অভাব’ রয়েছে বলেও জানায় শীর্ষ আদালত। সেই মামলাতেই এবার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও চূড়ান্ত রায়ে বিচারক, বিচারপতিদের জন্য এখনই কোনো নির্দেশিকা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।