মুম্বই, ৩০ আগস্ট: দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগের তদন্তে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন খোদ মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক আধিকারীক। অভিযোগ, তদন্তকারী আধিকারিক ঘুষ নিয়ে দোকানদারকে আড়াল করছিলেন। এর পরে পরিস্থিতি এতটাই উত্তাল হয়ে ওঠে যে, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ বাজেয়াপ্ত করা মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ওই আধিকারিকের মুখে জোরজবস্তি ভরে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার বৈজাপুর এলাকার। স্থানীয় একটি দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের সূত্রপাত একটি দুই বছরের শিশুকে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দোকান থেকে কেনা নোনতা স্ন্যাকস খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরিবারের অভিযোগ, স্ন্যাকস খাওয়ার পর শিশুটির মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের এফডিএ দপ্তরে অভিযোগ জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে এক আধিকারীক দোকানটি পরিদর্শনে যান। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দোকানে পৌঁছনোর আগেই শিশুটির অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত ওই নোনতা স্ন্যাকসের প্যাকেট সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। রিদর্শনের সময় আধিকারিক বেশ কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুটের প্যাকেট উদ্ধার করেন বলে জানা যায়। কিন্তু দোকানদারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপরই আধিকারিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। তাঁকে ঘুষ নিয়ে দোকানদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ জনতা আধিকারিককে ঘিরে ধরে। তাঁদের কয়েকজন হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুটের প্যাকেট তুলে ধরে আধিকারিককে সেগুলি জোর করে খাওয়ানোর দাবি তোলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বিস্কুটগুলি যদি খাওয়ার উপযোগী হয়, তাহলে আধিকারিক নিজেই সেগুলি খান। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে আধিকারিক সত্যিই ঘুষ নিয়েছিলেন কি না, সেই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।