Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মালিকের অজান্তেই জমি-বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছে অসাধু চক্র, প্রশাসনিক তদন্ত করে জমি ফেরতের ক্ষমতা দিতে কেন্দ্রকে প্রস্তাব রাজ্যের

স্ত্রীর নামে জমি রেজিস্ট্রি করে গিয়েছিলেন অসুস্থ স্বামী। যাতে মৃত্যুর পর কোনও সমস্যায় না পড়তে হয় ষাটোর্ধ্ব পূর্ণিমা দেবীকে (নাম পরিবর্তিত)।

মালিকের অজান্তেই জমি-বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছে অসাধু চক্র, প্রশাসনিক তদন্ত করে জমি ফেরতের  ক্ষমতা দিতে কেন্দ্রকে প্রস্তাব রাজ্যের
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রীর নামে জমি রেজিস্ট্রি করে গিয়েছিলেন অসুস্থ স্বামী। যাতে মৃত্যুর পর কোনও সমস্যায় না পড়তে হয় ষাটোর্ধ্ব পূর্ণিমা দেবীকে (নাম পরিবর্তিত)। স্বামীর মৃত্যুর ছ’মাস পর সেই জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকায় বৃদ্ধাশ্রমে থাকার সিদ্ধান্ত নেন একাকী বসবাসকারী পূর্ণিমাদেবী। কিন্তু, জমি বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামে থাকা জমি আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে! তিনি নিজেই নাকি সেই জমি বিক্রি করেছেন! পরবর্তীকালে জানা যায়, দলিল জাল করে তাঁর সেই জমি বিক্রি করে দিয়েছে অসাধু চক্রের কারবারিরা। পূর্ণিমাদেবী একা নন, ভুয়ো নথি কাজে লাগিয়ে বা কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে জমির মালিক সাজিয়ে রমরমিয়ে চলছে আসল মালিককে অন্ধকারে রেখে জমি বিক্রির করবার। বাংলার পশিাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যেও এই চক্রের ফাঁদে পড়ছে বহু মানুষ। অগত্যা জমির মালিকানা ফিরে পেতে দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার ধকল নিতে হচ্ছে আসল মালিককেই। এই সমস্যায় এবার ইতি টানতে উদ্যোগী হল নবান্ন। সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে কেন্দ্রকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক স্তরেই কোনও পদস্থ আধিকারিক বা এমন আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করিয়ে প্রকৃত মালিককে জমি ফেরানোর আইন চালু করা হোক। এর ফলে আসল মালিক দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়েই তাঁর জমি দ্রুত ফেরত পাবেন।

Advertisement

১৯০৮ সালের সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। এর জন্য খসড়া বিল প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজ্য থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব মহলের মতামত এবং প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, রাজ্য অর্থদপ্তরের অধীন ‘ডাইরেক্টরেট অব রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড স্ট্যাম্প ডিউটি’ মোট ৮০টি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রকে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবা চালু করা নিয়ে। অনেকগুলি নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তাবও দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের এক অভিজ্ঞ আমলা জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলির মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, অজান্তেই জমি হাতছাড়া হওয়া মানুষগুলিকে দ্রুত সুরাহা দেওয়ার বিষয়টি। বাংলার তরফে এই দাবি বা প্রস্তাব রাখা হলেও দেশের অন্যান্য রাজ্যে কম-বেশি ঘটে চলেছে এমন ঘটনা। ফলে কেন্দ্র যদি রাজ্যের প্রস্তাব মেনে নেয়, সেক্ষেত্রে সারা দেশের মানুষেরই উপকার হবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যেই ভূমি সংস্কার বা জমি সংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করেন এমন বহু পদস্থ আধিকারিক আছেন। যাঁদের ক্ষেত্রে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা একেবারেই কঠিন ব্যাপার হবে না। তাছাড়া, এই অভিযোগ নতুন গ্রিভান্স পোর্টাল খুলেও নেওয়া যেতে পারে। সংশোধিত আইনে কেন্দ্র এই প্রস্তাব মেনে নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ