Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেবীপক্ষে অবিবাহিত মেয়েদের শাঁখা পরতে হয়, ভোগে পুরীর জিবেগজা

দেবীপক্ষ শুরু হলেই বাড়ির অবিবাহিত মেয়েদের হাতে ওঠে শাঁখা। কারণ এই বাড়িতে দুর্গা আদতে ঘরের মেয়ে উমা। পুরোনো নিয়ম মেনে আজও চালের পিটুলি বানিয়ে দেওয়া হয় শত্রুবলি।

দেবীপক্ষে অবিবাহিত মেয়েদের শাঁখা পরতে হয়, ভোগে পুরীর জিবেগজা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: দেবীপক্ষ শুরু হলেই বাড়ির অবিবাহিত মেয়েদের হাতে ওঠে শাঁখা। কারণ এই বাড়িতে দুর্গা আদতে ঘরের মেয়ে উমা। পুরোনো নিয়ম মেনে আজও চালের পিটুলি বানিয়ে দেওয়া হয় শত্রুবলি। পুরীর বিখ্যাত জিবেগজা ছাড়া এই বাড়িতে দেবীর ভোগ অসম্পূর্ণ। হাওড়ার বনেদি বাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম আন্দুলের দত্তচৌধুরী বাড়ির ৪৫৭ বছর পুরোনো দুর্গাপুজো।

Advertisement

সেন বংশের রাজত্বকালে কনৌজ থেকে এসেছিল ক্ষত্রিয়দের পাঁচ শরিক। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিল দত্তচৌধুরীরা। শোনা যায়, সুলতানি আমলে এই পরিবার চৌধুরী উপাধি পাওয়ার পর বালি গ্রাম থেকে এসে বসবাস শুরু করে আনন্দধূলিতে। সেই আনন্দধূলিই আজকের আন্দুল। আনুমানিক ১৫৫৭ সাল নাগাদ দত্তচৌধুরী বাড়িতে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন পূর্বপুরুষ রামশরণ দত্তচৌধুরী। পাঁচ শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই বাড়িতে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পূজিত হয়ে আসছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে উমা আসলে ঘরের মেয়ে। ষষ্ঠীতে দেবীকে সবুজ ওড়না পরিয়ে দেন বাড়ির মহিলারা। দশমীতে পরানো হয় লাল ওড়না। দেবীপক্ষ শুরু হলেই বংশের কুমারী মেয়েদের হাতে ওঠে শাঁখা। তবে পলা বা নোয়া পরা হয় না। অশুভ শক্তিকে পরিবার থেকে দূরে রাখতে এখনও পুজোর সময় দু’টি প্রথা পালন করা হয়। নবমীর সকালে দেবীর সামনে ২৮টি কালো প্রদীপ নিয়ে আরতি করেন পুরোহিত। আরতির পর সেগুলি উল্টে নিভিয়ে ফেলা হয়। একইসঙ্গে চালের পিটুলি দিয়ে বানানো হয় মানুষের মতো পুতুল। এরপর সেটিকে শত্রু হিসেবে বলি দিতে হয়।
এই পরিবারের একাদশতম প্রজন্মের সদস্য ধ্রুব দত্তচৌধুরী বলেন, ‘কালের নিয়মে কয়েকটি প্রথা এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যেমন, সন্ধিপুজোর সময় এখন আর কামান দাগা হয় না। দশমীর দিন নীলকণ্ঠ পাখিও ওড়ানো হয় না এখন। বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাঁঠাবলি। তবে নবমীর দিন কুমারী পুজো ও ধুনো পোড়ানো হয়।’ দত্তচৌধুরী বাড়ির পুজোর ভোগেও রয়েছে বিশেষ রীতি। এই বাড়ির পুজোর ভোগ সাজানো হয় পুরী থেকে নিয়ে আসা জিবেগজা ও খাজা দিয়ে। এই দুই উপকরণ ছাড়া ভোগ অসম্পূর্ণ। সঙ্গে নৈবেদ্যতে থাকে নারকেলের নাড়ু, চন্দ্রপুলি, ক্ষীরের ছাঁচ, মনোহরা ও আগমণ্ডা। অন্নভোগে থাকে পোলাও ও খিচুড়ি। একবার নাকি এই বাড়িতে শরিকি বিবাদের জেরে অর্থকষ্ট শুরু হয়েছিল। রামশরণ দত্তচৌধুরীর পরবর্তী প্রজন্মের হেঁশেলে যাতে অভাব না হয়, তাই ভোগ পরিবেশনের সময় ‘রামশরণের কড়াই ধর’ কথাটি উচ্চারণ করতে হয় আজও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ