Bartaman Logo
১৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উমার পরনের বেনারসি দেওয়া হয় দুঃস্থ মেয়েকে, নৈবেদ্য ২০০ কেজি আতপের

জোড়াসাঁকোয় মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে শীল বাড়ির পুজো এবার পড়ল ১৭০ তম বর্ষে। এই পুজো শুরু করেছিলেন রামচাঁদ শীল ও তাঁর স্ত্রী ক্ষেত্রমণি দাসী।

উমার পরনের বেনারসি দেওয়া হয় দুঃস্থ মেয়েকে, নৈবেদ্য ২০০ কেজি আতপের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা; জোড়াসাঁকোয় মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে শীল বাড়ির পুজো এবার পড়ল ১৭০ তম বর্ষে। এই পুজো শুরু করেছিলেন রামচাঁদ শীল ও তাঁর স্ত্রী ক্ষেত্রমণি দাসী। এখানে পুজো হয় বৈষ্ণব রীতিতে। প্রতিমা প্রায় আট ফুটের, একচালার ও সাবেকি ঢঙের। বাড়িতে রয়েছেন মঙ্গলচণ্ডী ও নারায়ণ দামোদর শিলা। তাঁরা নিত্যপুজো পান। পুজোর দিনগুলি বিশেষ পুজো হয়। এই বাড়ির পুজোর বৈশিষ্ট্য, কুমারী পুজোর পাশাপাশি সধবা পুজোও হয়। পুরোহিতের স্ত্রীকে পুজো করা হয়। হয় গাভী পুজোও। বলি হয় না। আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয় না। দেওয়া হয় ফল, নানা ধরনের মিষ্টি, মালপো, খাস্তা কচুরি, লুচি ইত্যাদি। পুজোয় নৈবেদ্য হিসেবে নিবেদন করা হয় ২০০ কেজি আতপ চাল, ৪০ কেজি সিদ্ধ চাল ও ৮০ কেজি চিনি। নৈবেদ্যর সিদ্ধ চাল গুরু বাড়িতে পাঠানো হয়। আতপ ব্রাহ্মণদের মধ্যে বিতরণের রীতি। প্রতিদিন ১০৮ পদ্মফুল ঠাকুরের চরণে দেওয়া হয়। অষ্টমীতে হয় ধুনো পোড়ানো। তাতে নৃত্য সহকারে অংশ নেন বাড়ির মহিলারা। প্রতিমা তৈরি হয় বাড়ির মণ্ডপে। আগে কুলির কাঁধে চেপে প্রতিমা নিরঞ্জন হতো। এখন ট্রলিতে প্রতিমা বসিয়ে বিসর্জনে যায় কলকাতার প্রসন্নকুমার ঘাটে। কৈলাস দর্শন হিসেবে দেবীর কাছে রাখা হয় একটি বিশেষ আয়না। জানা গিয়েছে, প্রথমে ঠাকুরকে সাধারণ কাপড় পরানো হয়। তারপর বাড়ির মহিলারা বেনারসি পরান। দশমীতে তা খুলে পরানো হয় তাঁতের কাপড়। নিরঞ্জনের আগে ঠাকুরকে ফুল দিয়ে সাজানো হয়। তার আগে হয় সিঁদুর খেলা। বাড়ির সদস্য অমলকুমার শীল জানান, ঠাকুরের বেনারসি বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়। কোনও দুঃস্থ বাড়ির মেয়ের বিয়েতে সেই প্রসাদী শাড়ি দেওয়ার নিয়ম। প্রথম পাঁচবছর পুজো হয়েছিল বাগবাজারের গোঁসাইবাড়িতে। পরবর্তী সময় মার্বেল প্যালেসের কাছে মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে মন্দির স্থাপিত হলে সেখানেই পাকাপাকিভাবে হয় পুজো। সুদৃশ্য এই বাড়ির পুজোয় দু’টি বিশাল কাচের ঝাড়বাতি জালানো হয়ে থাকে। আরতির প্রদীপটি দৃষ্টিনন্দন। সবমিলিয়ে উত্তর কলকাতার শীল পরিবারের ঐতিহ্যমণ্ডিত পুজো দেখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন বহু মানুষ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ