নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর আতঙ্কে মঙ্গলবার রাতে আত্মঘাতী হয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধ। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর নিথর দেহ বনগাঁ হাসপাতালের মর্গে শুইয়ে রেখেই ‘ভারতীয় প্রমাণে’ বুধবার হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়ালেন মৃতের বিধবা স্ত্রী, দুই ছেলে সহ গোটা মতুয়া পরিবারটি। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। অশোকনগরের গুমা এলাকার বাসিন্দা আত্মঘাতী ওই ব্যক্তির নাম নিখিল চন্দ্র দাস (৬৬)। বিজেপি প্রভাবিত মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী বলেই পরিচিত ছিল দাস পরিবার। সেই পরিবারেরই কর্তা হিয়ারিং শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এহেন চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে মতুয়া শিবিরেও। এদিন সন্ধ্যায় মৃতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের গুমা শান্তিনগরের বাসিন্দা নিখিল চন্দ্র দাস বাংলাদেশের বরিশাল থেকে ৩৫ বছর আগে ভারতে আসেন। এদেশের সমস্ত নথিপত্র তৈরি করান। তবে এসআইআর শুরু হতেই আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন তিনি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিখিলবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কারও নাম ছিল না। হিয়ারিংয়ের নোটিস পান নিখিলবাবু, তাঁর স্ত্রী সুলতি দাস, দুই ছেলে লিটন ও রিপন ও বড় বউমা অনিমা দাস। এরপর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাঁকে। পরিজনদের নিখিলবাবু বলতেন, এবার বোধহয় বাংলাদেশে ফিরতে হবে। কারণ, ভোটার হওয়ার জন্য কমিশন যে নথি চাইছে, তার একটিও তার কাছে নেই! বুধবার ছিল শুনানির দিন। পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে নিখিলেরও এদিন যাওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকেই নিখিলবাবু নিখোঁজ হয়ে যান। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, গুমা স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ধার থেকে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তাঁর দেহ উদ্ধার করে বনগাঁ হাসপাতালের মর্গে রাখে জিআরপি। কিন্তু কমিশনের ফতোয়া তো মানতেই হবে। হাজির হতে হবে শুনানিতে। স্ত্রী, পুত্রদ্বয় সহ শোকাহত পরিবারের চার সদস্য এদিন শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছে যান। নিখিলবাবুর বড় ছেলে লিটন দাস বলেন, এসআইআর নিয়ে বাবা আতঙ্কে থাকতেন। তাঁকে বারবার বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আমাদের পাশে আছেন। এমনকী মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কথাও বলেছিলাম। বাবা কাউকেই ভরসা করতে পারেননি। শুধু বলতেন, দেশছাড়া হতে হবে। পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। সেই আতঙ্কেই বাবা আত্মঘাতী হলেন। মৃতের নাতনি কোয়েল দাস বলেন, দাদু সহ পরিবারের পাঁচজনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। দাদু চলে গেলেন। সবাই শোকাহত! এই পরিস্থিতিতেও শুনানিতে যেতে হয়েছে অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩৩ নম্বর বুথের এই ভোটারদের। সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও সুরঞ্জীব হালদার জানিয়েছেন, ওই পরিবারের প্রত্যেকেই শুনানিতে এসেছিলেন।