নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি টাকা খরচে তৈরি হয়েছিল কর্মতীর্থ। লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের রুটিরুজির ব্যবস্থা করা। এমএসডিপি প্রকল্পের অর্থে তৈরি বারাসত ২ ব্লকের দু’টি কর্মতীর্থের অনেক দোকানের দরজায় আজও ঝুলছে তালা। খসে পড়ছে প্লাস্টারের চাঙড়। দরজা, জানালাও নষ্ট হয়ে কর্মতীর্থগুলি যেন পোড়ো বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীরা চাইছেন, এগুলি পুরোপুরি চালু করা হোক।
উত্তর ২৪ পরগনায় বারাসত ২ ব্লকের কীর্তিপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন খড়িবাড়ি কর্মতীর্থ। এমএসডিপি প্রকল্পে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে এই কর্মতীর্থটি তৈরি হয়। এখানে রয়েছে ৩৩টি স্টল। কিন্তু এর মধ্যে হাতেগোনা ৩-৪ টি দোকান চালু রয়েছে। বাকি বেশ কিছু দোকানঘর এখনও বণ্টন হয়নি। অনেকে আবার দোকান নিয়েছেন, কিন্তু চালাচ্ছেন না। অথচ এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় হয়েছিল এক কোটি টাকা। যাঁরা এই কর্মতীর্থে দোকান চালাচ্ছেন না, তাঁদের দোকানের চাবি বারাসত ২ ব্লক প্রশাসন ফেরত নিয়েছে একবছর আগে। এখনও সেইসব দোকান নতুন করে কোনও ব্যবসায়ীকে বণ্টন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল হক বলেন, সরকারিভাবে তৈরি হওয়া এই কর্মতীর্থ আজ বেহাল। কেউই দোকান খোলেন না। সরকারি টাকা নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ব্লকেরই অন্তর্গত ফলতি-বেলিয়াঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন টোনা গ্রামে আরও একটি কর্মতীর্থ গড়ে উঠেছিল। সেটিও বেহাল অবস্থায়। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে চালু হওয়া এই কর্মতীর্থে রয়েছে ৩৪টি স্টল। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি স্টল বন্ধ হয়ে পড়ে। মাত্র ১৬টি দোকান চলছে কর্মতীর্থে। এই কর্মতীর্থ তৈরিতে খরচ হয় এক কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। খড়িবাড়ি কর্মতীর্থে দোকান নিয়েছিলেন মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন। বর্তমানে তিনি আর দোকান চালাচ্ছেন না। বললেন, এই কর্মতীর্থের দোকানগুলি অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠেছিল। ঘরগুলি ফ্ল্যাটবাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে, মার্কেটের আদলে তৈরি হয়নি। এই কারণে এখানে কোনও ক্রেতা আসেন না। আমরা দোকান চালিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছিলাম। তাই বন্ধ করে দিয়েছি। এনিয়ে দপ্তরের এক কর্তা বলেন, দ্রুত দোকানগুলি চালু করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।