ওয়াশিংটন ডিসি: আমেরিকায় দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হল ইজরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মীর। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা। অপর জন পুরুষ। মৃতদের নাম ইয়ারন লিসচিনস্কি ও সারা মিলগ্রিম। বুধবার বিকেলেওয়াশিংটন ডিসির ইহুদি জাদুঘরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে বেরনোর সময় গুলি চালায় আততায়ীরা। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে শিকাগোর এলিয়াস রড্রিগেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারির সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল ওই অভিযুক্ত যুবক। তবে হামলার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলের কাছেই রয়েছে এফবিআইয়ের ফিল্ড অফিস। এই অবস্থায়, এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ওয়কিবহাল মহল। ইজরায়েলের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের কড়া নিন্দা করেছে ভারত, আমেরিকা।
জানা গিয়েছে, নিহতরা সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা। শীঘ্রই এনগেজমেন্টের পরিকল্পনা ছিল। পরের সপ্তাহে জেরুজালেমে সারাকে প্রোপোজ করার জন্য আংটিও কিনে রেখেছিলেন ইয়ারন। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে আমেরিকার ইজরায়েলি দূতাবাস। বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, ‘ইয়ারন ও সারা সহকর্মী হওয়ার পাশাপাশি আমাদের বন্ধুও ছিলেন। ইহুদি জাদুঘর থেকে বেরনোর সময় এক জঙ্গি ওঁদের গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় আমরা শোকস্তব্ধ। মৃতদের পরিবারের পাশে আসি।’
হত্যাকাণ্ডের জন্য ইহুদি বিদ্বেষকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ডিসির এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে ইহুদি বিদ্বেষ। এটা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। আমেরিকায় ঘৃণা আর মৌলবাদের কোনও জায়গা নেই। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই।’ দূতাবাসের দুই কর্মীর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে তিনি জানান. বিশ্বে ইজরায়েলের সব দূতাবাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হবে। ওয়াশিটংনের পাশাপাশি নিন্দায় সরব হয়েছে ভারতও। এক্স হ্যান্ডলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তোপ, ‘ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ইজরায়েলি কূটনীতিককে হত্যার কড়া নিন্দা করছি। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও সহকর্মীদের পাশে আছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’