Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জোড়া ভুয়ো শিক্ষক গ্রেপ্তার, বেপাত্তা গ্রুপ ডি কর্মী, তমলুকের খামারচক হাইস্কুলে তোলপাড়

জোড়া ভুয়ো শিক্ষক গ্রেপ্তার, বেপাত্তা গ্রুপ ডি কর্মী, তমলুকের খামারচক হাইস্কুলে তোলপাড়
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জোড়া ভুয়ো শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তমলুকের খামারচক হাইস্কুলে আরও এক ভুয়ো গ্রুপ-ডি কর্মীর হদিশ পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার থেকেই ওই কর্মী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি ইস্তফা দিতে চান বলেও পরিচালন কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদককে জানিয়েছেন। এই অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পরামর্শ নিতে সোমবার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অফিসে এসেছিলেন। সেখানে ম্যানেজিং কমিটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায়। ২০২২ সালে ওই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা ছাড়াই একজন গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি কর্মীকে নিয়োগ করা হয়। ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের কায়দায় তাঁদেরও অ্যাকাউন্টে রেগুলার কর্মী হিসেবে মাইনে ঢোকে। উৎশ্রী পোর্টালে আবেদন করে ওই গ্রুপ-সি কর্মী মহিষাদলের একটি স্কুলে বদলি হয়েছেন। আর গ্রুপ-ডি কর্মী এখনও খামারচক হাই স্কুলে কর্মরত।

Advertisement

এনিয়ে পলাশবাবু বলেন, খামারচক হাই স্কুলের টিআইসি এবং একজন সহ শিক্ষক আমার কাছে এসেছিলেন। ওই স্কুলের একজন গ্রুপ ডি কর্মীর নিয়োগ বৈধ নয় বলে জানা গিয়েছে। তিনি চাকরি ছাড়তে চাইছেন। এই অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছি।
উল্লেখ্য, খামারচক হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা ছাড়াই কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে শুভেন্দু হাটুয়া এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ে অয়নকুমার দাস নামে দু’জন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। শিক্ষকদের নথি ভেরিফিকেশন চলাকালীন তাঁরা কোনও তথ্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে জমা করতে পারেননি। এরপর তদন্তে জানা যায়, নথি জালিয়াতি করে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই দুর্নীতির মূল মাথা স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার হাটুয়া। এই মুহূর্তে তিনি সিআইডি হেফাজতে আছেন। এছাড়াও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অফিসের দুই আপার ডিভিশন ক্লার্ক সুব্রত তুঙ্গ এবং পুলকেশ মাইতি ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁরা ডিআই অফিসে বসে নথি কারচুপি করে ভুয়ো শিক্ষকদের রেগুলার শিক্ষক হিসেবে মাইনে পেতে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ।
গত ৩ এপ্রিল ২০১৬ সালের প্যানেলের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি খারিজ হয়েছে। সেই তালিকায় খামারচক হাই স্কুলের ওই গ্রুপ-ডি কর্মীর নাম নেই। তখনই সকলের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। কারণ, ২৬ বছর বয়সি ওই যুবক ২০২২ সালে নিযুক্ত হন। এসএসসি পরীক্ষা ছাড়াই কীভাবে সেই নিয়োগ হল তানিয়ে নানামহলে প্রশ্ন ওঠে। প্যানেল বাতিলের পর ওই কর্মী আরও চাপে পড়ে যান। বাধ্য হয়ে শুক্রবার থেকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। ২০ বছর পর ওই স্কুলে সদ্য ম্যানেজিং কমিটি গড়া হয়েছে। সেই কমিটির কাছে ওই গ্রুপ-ডি কর্মী ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এরপর পরামর্শ নিতে ডিআই (মাধ্যমিক) অফিসে যান টিআইসি তিমির বর্মন ও সহ শিক্ষক তরুণ পুরকাইত। খামারচক হাই স্কুলের টিআইসি বলেন, আমাদের স্কুলের এক গ্রুপ-ডি কর্মীর নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি স্কুলেও আসছেন না। এই অবস্থায় কী করণীয় তা নিয়ে পরামর্শ নিতে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অফিসে গিয়েছিলাম। বুধবার ওই গ্রুপ-ডি কর্মীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি মেডিক্যাল লিভে থাকার কথা জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ