


ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: তিস্তাপাড়ে দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেটরাজ! বেআইনি কারবার চালানোর জন্য নদীর পাড়ে সরকারি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছিল পাকাঘর। তিস্তার চরে খাসজমি দখল থেকে শুরু করে নদী থেকে বালি তুলে পাচার-সবটাই পরিচালনা করা হত ওই ঘরে বসে। সন্ধ্যার পর সেখানেই জমত নেশার আসর। অভিযোগ, দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেটে ‘কাটমানি’ না দিয়ে তিস্তার ভাঙন রোধ কিংবা নদীবাঁধ সংস্কার-কোনো কাজই করা যেত না।
তৃণমূল জমানায় এই সিন্ডিকেটের ভয়ে কার্যত সিঁটিয়ে থাকতেন জলপাইগুড়ির খড়িয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দপল্লি, সুকান্তনগর এলাকার বাসিন্দারা। যদিও রাজ্যে পালাবদল হতেই ‘বেপাত্তা’ ওই সিন্ডিকেট বাহিনী। তবে, দীর্ঘদিন ধরে বালির ট্রাক্টরের দাপটে বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় তিস্তার বাঁধের অবস্থা বেহাল। এলাকার মানুষের দাবি, লাগাতার বালি বোঝাই ট্রাক্টর চলায় বাঁধের মাটি বসে গিয়েছে। ফাটল ধরেছে একাধিক জায়গায়। দিনের পর দিন বালির ট্রাক চলাচল করায় রাস্তা দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। এবারের বর্ষায় যে কী হাল হবে, ভাবলেই উদ্বেগ বাড়ছে তাঁদের।
বিবেকানন্দপল্লি এলাকার বাসিন্দা মানিক হীরার অভিযোগ,দুই ভাইয়ের সিন্ডিকেট বাহিনী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। তিস্তা নদীর ধারে ঘর তৈরি করেছিল তারা। বালি পাচার সহ নানা ধরনের বেআইনি কাজের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হত ওই ঘরে বসে। সন্ধ্যার পর সেখানে জমত নেশার আসর। তবে ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরই নদীর ধারে সিন্ডিকেটের ঘরে তালা লাগিয়ে ‘উধাও’ হয়ে যায় বাহিনী।
সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন লক্ষ্মী সরকার। বললেন, ভোর থেকে শুরু হয়ে যেত বালির ট্রাক্টরের দাপট। সারাদিন ধরে যাতায়াত করত। বালির গাড়ির দৌরাত্ম্যে গ্রামের রাস্তা একেবারে শেষ। রাস্তা দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। বর্ষায় যে কী হবে, জানি না। বিজেপি সরকার গড়ার পর বালির গাড়ি চলতে দেখছি না। জানি না, পরে কী হবে।’
বিবেকানন্দপল্লির কিছু কৃষকের জমির উপর দিয়ে গ্যাসের পাইপ লাইন গিয়েছে। এর ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও কাটমানি খেতে আসরে নেমে পড়ে সিন্ডিকেট বাহিনী, এমনটাই অভিযোগ এলাকার মানুষের। স্থানীয় কৃষক দিলীপ হীরার দাবি, বিবেকানন্দপল্লির প্রায় ৮০ জন কৃষকের জমির উপর দিয়ে গ্যাসের লাইন গিয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে এক ডেসিমেল জমির জন্য ২৮ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট বাহিনী এর মধ্যে ঢুকে জানিয়ে দেয়, ডেসিমেল প্রতি ১৬ হাজার টাকা করে মিলবে। এর প্রতিবাদ জানাই আমরা। চাপে পড়ে পিছু হটে সিন্ডিকেট বাহিনী।
দুই ভাইয়ের বাহিনীর মাথায় কার হাত ছিল? বিবেকানন্দপল্লির বাসিন্দা তথা বিজেপির জলপাইগুড়ির চার নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতি উজ্জ্বল বারুইয়ের অভিযোগ, এখানে যারা সিন্ডিকেট চালাত, তাদের মাথার উপর তৃণমূলের কৃষ্ণ দাসের মদত ছিল। এমনটাই তারা দাবি করত এলাকায়। সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই কৃষ্ণর ভয় দেখাত ওই বাহিনী। যদিও এলাকায় কোনো সিন্ডিকেটরাজ চলত না বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতা জ্যোতির্ময় সরকারের।