নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: মায়ের ক্যান্সার। চিকিৎসা চলছে। বাবা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। খরচ চালাতে হিমশিম অবস্থা। মেয়ে অঙ্কিতা চক্রবর্তী গৃহশিক্ষকতা করে কিছুটা হলেও খরচের বোঝা লাঘব করেন। কবে থেকে দেওয়া হবে ‘যুবসাথী’র ফর্ম, ঘোষণার পর থেকে নিয়মিত খোঁজ রাখছিলেন। রবিবার সকাল সকাল বারুইপুর পুরসভায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বলছিলেন, ‘মাসে মাসে ১৫০০ টাকা কম কিছু না। সবদিকে এত খরচ, কিছু সুবিধা তো হবেই।’ শিক্ষিকা হতে চান কাকদ্বীপের অন্তরা বৈদ্য। তাঁর বাবা পেশায় দিনমজুর। অনটনের সংসারে ছোটোবেলা থেকেই লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তিনিও প্রথম দিনই চলে এসেছেন ‘যুবসাথী’ ক্যাম্পে আবেদনের জন্য।
রবিবার সকাল থেকে জেলায় জেলায় যুবসাথী’ প্রকল্পের আবেদনের জন্য আয়োজিত শিবিরগুলিতে যুবক-যুবতীদের ভিড় উপচে পড়ে। অনেকেই অবশ্য অনলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করে পূরণের পর তা ক্যাম্পে এসে জমা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি অনেকে এই শিবিরগুলিতে এসে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং খেতমজুরদের ভাতার জন্য আবেদন করেছেন।
এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখেন জনপ্রতিনিধিরা। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে বনগাঁ, বসিরহাটে একই চিত্র। শিবরাত্রির ব্রত পালন করে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন দেবিকা চক্রবর্তী ও শুভশ্রী রায়। উপোসের মধ্যেও মুখে ক্লান্তির ছাপ নেই। দেবিকার কথায়, ‘একবার কষ্ট করে আবেদন করলে মাসে দেড় হাজার টাকা।’ শুভশ্রীর সংযোজন, ‘উপোস রেখেও চলে এসেছি। ফর্ম জমা না দিলে মন শান্তি পাবে না। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দিনেও এত ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছে এই প্রকল্প ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা কতটা।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম দিনে এই জেলায় ৪০ হাজার ৭২২ জন আবেদন করেছেন।
ক্যাম্প ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে হুগলিতেও। এদিন জেলার বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক উপস্থিত হয়েছিলেন। ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে আবেদনকারীর ভিড়ই সর্বোচ্চ ছিল। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পগুলিতে উপস্থিত লোকজনের সিংহভাগই তরুণ-তরুণী। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ অন্যান্য প্রকল্পের আবেদনও এদিন জমা পড়েছে। একই উৎসাহ দেখা গিয়েছে হাওড়ায়। সালকিয়া সুইমিং পুল, শরৎ সদন, সমাজকল্যাণ সংঘ সহ একাধিক জায়গার ক্যাম্পে সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন যুবক-যুবতীরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন কেন্দ্রে যান উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ও মধ্য হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ রায়। কোথাও বিধায়ক নিজেই ফর্ম বিলি করেন। বালির কেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখেন বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া মহকুমার প্রতিটি ব্লকে এবং পুরসভায় শিবির করে ফর্ম দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর এদিন বিকেল ৫ টা পর্যন্ত এই মহকুমায় ১১ হাজার ৮৬৯ জন ফর্ম নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ফর্ম জমাও করে দিয়েছেন।