Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হঠাৎ বন্ধুত্বের সুর ট্রাম্পের, পাল্টা প্রশংসা মোদিরও

কয়েকদিন আগেই তিনি বলেছিলেন—‘ভারত, চীন ও রাশিয়ার নয়া অক্ষ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নই।’ কারণ, সামরিক ক্ষমতায় আমেরিকা বিশ্বে সবার আগে।

হঠাৎ বন্ধুত্বের সুর ট্রাম্পের, পাল্টা প্রশংসা মোদিরও
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কয়েকদিন আগেই তিনি বলেছিলেন—‘ভারত, চীন ও রাশিয়ার নয়া অক্ষ নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নই।’ কারণ, সামরিক ক্ষমতায় আমেরিকা বিশ্বে সবার আগে। নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে কখনও বলেছেন, ‘আমার সঙ্গে মোদির কথা হল। তাঁকেও বলেছি যে, ভারত সবথেকে বেশি শুল্ক নেয়। আমার সামনে কেউ মুখ খুলতে পারে না।’ অসংখ্যবার বলেছেন, ‘আমিই ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ থামিয়েছি।’ এসবের পাশাপাশি দফায় দফায় ভারতকে হুমকি এবং ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো তো আছেই। কিন্তু কোন জাদুবলে এহেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর নরম হয়ে গেল? শনিবার তাঁর আকুল বিবৃতি, ‘মনে হয়, ভারতকে আমরা বন্ধু হিসেবে হারিয়ে ফেলব না। মোদি তো তো আমার খুব প্রিয় বন্ধু। এই তো কয়েক মাস আগেই আমরা দুজনে রোজগার্ডেনে হাঁটলাম একসঙ্গে। তাই চিন্তার কিছু নেই।’ এখানেই শেষ নয়। মোদি এবং ভারতকে কাছে রাখতে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভারত এখন যা করছে, সেটা আমি পুরোপুরি পছন্দ করছি না ঠিকই। কিন্তু এটাও সত্যি, মোদি এক মহান প্রধানমন্ত্রী।’ অর্থাৎ তিনি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত মিত্রতার দিকেই অঙ্গুলিহেলন করলেন। তারপরও বললেন, ‘ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্ক বহু বছরের। বাণিজ্য আলোচনা চলছে। চুক্তি নিয়ে কথাবার্তাও।’

Advertisement

ট্রাম্পের এই ভোলবদলে ভারত বিস্মিত হলেও কূটনৈতিক সৌজন্য এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে মোদি সরকার। ট্রাম্প যখন লাগাতার ভারত ও প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী একবারও ট্রাম্পের নামোচ্চারণ করে বিবৃতি দেননি। এদিন কিন্তু ট্রাম্পের মুখে নিজের স্তুতি শুনেই মোদি তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দিলেন। তিনি স্বাগত জানান এই বিবৃতিকে। বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইতিবাচক আবেগ এবং ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে যা অবস্থান, সে ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ একমত। ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে গভীর বিশ্বস্তরীয় স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক।’ মোদির এই বিবৃতিতে প্রকটভাবে নিছক কূটনৈতিক প্রোটোকল ছাড়া আর কিছুই নেই। কারণ হল, ট্রাম্পের মনোভাব তথা মতিগতির স্থিতিশীলতা নেই। আজ যা বলেন, আগামী কাল তার বিপরীত মনোভাব দেখান। আর একটানা ভারতকে কোণঠাসা করার পর এখন তাঁর বোধোদয়ের কারণ হল ভয়— সেটা স্পষ্ট। ভয়ের কারণ? চীন, রাশিয়া, ভারত একজোট হয়েছে। ইউরেশিয়ান শক্তির উত্থান স্পষ্ট। ট্রাম্প নিজের দেশেই প্রবল সমালোচিত ভারতকে হাতছাড়া করার জন্য। মিডিয়া থেকে বিরোধী—সর্বত্র বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের ভ্রান্ত বিদেশনীতি ভারতকে চীন ও রাশিয়ার অক্ষে নিয়ে গেল। আমেরিকা সম্পূর্ণ একঘরে। পাশাপাশি সামনে আসছে বহুজাতিক মার্কিন সংস্থাগুলির পরোক্ষ চাপ। ১৪৫ কোটি জনসংখ্যার বাজারকে ট্রাম্প যেভাবে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেটা আমেরিকার অর্থনীতির পক্ষেও বড়সড় ধাক্কা। আমেরিকার বিগ সেভেন কর্পোরেশনের সিংহভাগ বাণিজ্য ভারতে। অতএব ভারত ছাড়া গতি নেই! অবশেষে কি পিছু হটছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ