ওয়াশিংটন: আতঙ্কের নাম রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ। দ্বিতীয়বার মার্কিন মসনদে বসেই ভারত সহ অন্য দেশগুলির পণ্যের উপর সমহারে পাল্টা শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবারই আমেরিকার এই ট্যারিফ ঘোষণার কথা। নতুন শুল্ক হার ঘোষণার দিন ২ এপ্রিলকে ‘লিবারেশন ডে’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে অন্ধকারে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। এই পাল্টা শুল্ক সমস্ত পণ্যের উপর, না ক্ষেত্র বিশেষে না কি দেশে নির্বিশেষে চাপানো হবে, তা নিয়ে আতান্তরে শিল্পমহল। ২০২১-২২ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আমেরিকাই ছিল ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ। ১৮ শতাংশ পণ্যের ক্রেতা ছিল ওয়াশিংটন। অন্যদিকে আমেরিকা থেকে ভারতে এসেছিল ৬.২২ শতাংশ পণ্য। আর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাণিজ্য হয়েছিল ১০.৭৩ শতাংশ। এদিকে, সম্ভাব্য নয়া মার্কিন শুল্ক ঘোষণার আগের দিন বিরূপ প্রভাব পড়ল ভারতের শেয়ার বাজারে। একধাক্কায় একদিনে বম্বে শেয়ার বাজারের সূচক সেনসেক্স পড়েছে ১ হাজার ৩৯০ পয়েন্ট। পতনের হার ১.৮০ শতাংশ। অন্যদিকে জাতীয় শেয়ার সূচক নিফটি পড়েছে ৩৫৩.৬৫ পয়েন্ট। নিফটির পতনের হার ১.৫০ শতাংশ।
সূত্রের খবর, ৩০ টি ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দেশের সঙ্গে বাণিজ্য হয় ভারতের। এরমধ্যে ৬টি কৃষিক্ষেত্র এবং ১৪টি শিল্পক্ষেত্র। যদি ক্ষেত্রবিশেষে আমেরিকা শুল্ক চাপায় তবে মদ, মাংস এবং চিনি শিল্পের উপর সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ভারত থেকে ১ কোটি ৯২ লক্ষ মার্কিন ডলারের মদ রপ্তানি হয় আমেরিকায়। ওয়াশিংটন যদি ১২২.১০ শতাংশ শুল্ক বসায় তবে মার্কিন বাজারে ভারতীয় মদের প্রবেশ প্রায় কঠিন হয়ে পড়বে। একই রকম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও। ১৮ কোটি ১৪ লক্ষ ডলারের দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানি হয় আমেরিকায়। এই ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের শুল্কের ফারাক ৩৮.২৩ শতাংশ। ভারতের মতো সমহারে পাল্টা আমদানি শুল্ক বসলে ঘি, মাখন এবং গুঁড়ো দুধের দাম বাড়বে। ফলত বাজার হারাবে এই পণ্যগুলি। মাছ, মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত সিফুডের ক্ষেত্রে ২৭.৮৩ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসবে। সেক্ষেত্রে ২৫০ কোটি ৮০ লক্ষ ডলারের রপ্তানি বিরাট ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং ভারতীয় কোকোর বিরাট বাজার রয়েছে মার্কিন মুলুকে। এই বাবদ প্রায় ১০০ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার আয় করে ভারত। ২৪.৯৯ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বাড়লে আমেরিকায় এই পণ্যগুলি বাজার হারাবে।
এই অবস্থায় ভারতকে যে কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না, তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখল ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসায় দিল্লি। এরফলে ভারতের বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্যের প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন ডেয়ারি পণ্যের আমদানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫০ শতাংশ, মার্কিন চালের উপর জাপান ৭০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়। এবার এই অসাম্যের অবসান হবে।