শান্তনু দত্তগুপ্ত: হারবার্ট হুভার। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এবং নিশ্চিতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপ্রেরণা। ১৯৩০ সালে স্মুট-হাউলি ট্যারিফ অ্যাক্ট পাশ করিয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল, বিশ্ব মহামন্দা বা গ্রেট ডিপ্রেশনের থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্তি দেওয়া। কী ছিল সেই আইনে? ২০ হাজারেরও বেশি পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর দাওয়াই। প্রত্যেক নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল প্রায় ২০ শতাংশ। ফল? যে দেশগুলির পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত আক্রমণের রাস্তা বেছে নিয়েছিল। ফলে পাল্টা শুল্ক চেপেছিল আমেরিকার উপর। মার্কিন ঘরোয়া পণ্যের রপ্তানি থমকে গিয়েছিল। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ছে না। কারণ চাহিদা নেই। তার জেরে কর্মসংস্থানে ধস, সঙ্গে অর্থনীতিতেও। একের পর এক মার্কিন ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার খবর উঠে এসেছিল শিরোনামে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খাদ থেকে উঠে দাঁড়ানোর যে চেষ্টা হুভার করছিলেন, তা পড়েছিল মুখ থুবড়ে। এবং অবশ্যই আমেরিকার আর ‘গ্রেট’ হয়ে ওঠা হয়নি। ট্রাম্প মহাশয় ইতিহাসের এই অংশটি বোধহয় মনে রাখেননি। বা রাখতে চাননি। তাই আজ আমরা দেখছি শতবর্ষ আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তবে মহামন্দা ঠেকানোর জন্য নয়। কারণ, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট আগেন’ স্লোগান ট্রাম্পের প্রচারে থাকলেও আসল লক্ষ্য হাতেগোনা কয়েকটি দেশ—ব্রিকস। এই গোষ্ঠী দুশ্চিন্তার কড়াইতে ফেলে চুবিয়ে চলেছে তাঁকে। আর তার জের? ব্রাজিল ৫০ শতাংশ। রাশিয়ার উপর চাপিয়ে রাখা ‘নিষেধাজ্ঞা’। ভারত ৫০ শতাংশ। চীন ৩০ শতাংশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ শতাংশ। এইটি হল ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির উপর চাপানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-তালিকা।
যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুল্কযুদ্ধ। ট্রাম্পের হাতে একটা অজুহাত ছিলই—রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। পুতিন তাঁর হুঁশিয়ারিতে কান দেননি। তাই ইউক্রেনে বন্ধও হয়নি রাশিয়ার হামলা। ন্যাটোর সমর্থনে এবং আমেরিকার ঠেকনায় জেলেনস্কি এখনও ময়দানে টিকে আছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে পুতিনকে টলানো যাচ্ছে না। মূল কারণ? রাশিয়ার অর্থনীতি এখনও ধসে পড়েনি। এক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা অবশ্যই ভারতের। কারণ, কোভিডকাল থেকেই রাশিয়ার তেল আমদানি করছে নয়াদিল্লি। এবং প্রচুর পরিমাণে। তার থেকেও বেশি জ্বালানি কিন্তু পুতিনের দেশ থেকে কিনে থাকে চীন। তা সত্ত্বেও চীনের উপর কেন ৩০ শতাংশ, আর ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা? প্রথমত, চীন শক্তিশালী বলে। তাদের প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, বাজার সবদিক থেকেই আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার মতো। উপরন্তু বহু শিল্প ও ভোগ্যপণ্য চীন থেকে আমদানি করে আমেরিকা। ভারত এবং চীন—দুই দেশকেই লক্ষ্মণরেখার বাইরে ফেলে রাখলে তাদেরই বা চলবে কীভাবে? এই ৩০ শতাংশের জুজুও হয়তো থাকত না। কিন্তু আছে। কারণ ব্রিকসের এই প্রধান তিনটি দেশ, চীন, রাশিয়া ও ভারত এক সূত্রে বাঁধা পড়েছে। ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা গোষ্ঠীতে থাকতে পারে, কিন্তু এই তিন দেশের নিরিখে তারা দুধভাত। রাশিয়া, চীন ও ভারত একে অপরের সঙ্গে ব্যবসা বাড়াচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সীমান্ত সমস্যা থাকলেও সেটা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। ২০২৪ সালেই ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে গিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারে। নজর করার মতো বিষয় হল, ফার্মা সেক্টর বা ওষুধ শিল্প। এই ক্ষেত্রটিতে ভারত রপ্তানি বাড়িয়েছে রকেটের গতিতে। ফলটা স্পষ্ট, বহর চওড়া হচ্ছে ব্রিকস অর্থনীতির। নিজেদের স্বার্থেই একটা অক্ষের কথা ভাবছে চীন, রাশিয়া, ভারত। এই সমীকরণ যত গতি পাবে, ততই আমেরিকার দাদাগিরির শিরে সংক্রান্তি। এই অবস্থায় ট্রাম্প কী করতেন? সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা এখন করাটা বোকামি। সবারই পরমাণু অস্ত্র আছে। কাজেই ভাতে মারা যাক।
এই হল গোটা শুল্কযুদ্ধের ঘটনাক্রম। এবং এই প্রতিবেদনের স্রেফ গৌরচন্দ্রিকা। এবার দেখা যাক, এই মিসঅ্যাডভেঞ্চারে আমেরিকার সত্যিই কতটা লাভ হতে চলেছে।
গাড়ি থেকে গারমেন্ট, আমেরিকা কিন্তু পুরোপুরি আত্মনির্ভর কোথাও নয়। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে দু’টি গাড়ি কোম্পানির—ফোর্ড এবং জেনারেল মোটরস। দুটোই নামজাদা, বিশ্ববিখ্যাত সংস্থা। কিন্তু অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ তারাও আমদানি করে ভিন দেশ থেকে। তার একটা বড় অংশীদার ভারত। আমাদের দেশ থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ বিপুল মাত্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলি কিনে থাকে। ইঞ্জিনের ভালভ, পিস্টন, কিংবা চেসিস, ইলেকট্রিক গাড়ির পার্টস এবং অবশ্যই টায়ার। এইসব যন্ত্রাংশ ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্ব, থুড়ি উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমদানি করলে উৎপাদন খরচ কমে। আমেরিকার মাটিতে ‘র মেটেরিয়ালে’র যা দাম, আর যা লেবার খরচ, আত্মনির্ভর হতে গেলে মার্কিন গাড়ি কোম্পানিগুলো আর লাভের মুখ দেখবে না। কিন্তু এখন বাড়তি শুল্ক চাপানোর পর কী হবে? উপায় দু’টি। ১) ভারত থেকে আমদানি বন্ধ করে অন্য সোর্স খুঁজতে হবে তাদের। ২) বাড়তি শুল্ক দিয়ে ভারতীয় পণ্যই কিনতে হবে। আর দু’টি ক্ষেত্রেই গাড়ির উৎপাদন খরচ বাড়বে। চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এখন পর্যন্ত ফোর্ডকে শুল্ক গুনতে হয়েছে ৮০ কোটি ডলার এবং জিএম’কে ১১০ কোটি ডলার। এরপর খুব স্বাভাবিকভাবেই গাড়ির দাম বাড়বে। আর তার মাশুল কে দেবে? আমেরিকানরা। সবচেয়ে বড় কথা, বিষয়টা শুধু চারচাকায় থেমে থাকবে না। ধরা যাক, জামাকাপড়ের কথাই। আমেরিকা কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি গারমেন্ট জাতীয় পণ্য কেনে? চীন। আর তারপরই ভারত। চীন অবশ্যই বিশ্বের সবথেকে বড় রপ্তানিকারক দেশ। গোটা দুনিয়ায় যত জামাকাপড় এক্সপোর্ট হয়, তার ৩৯ শতাংশই বেজিংয়ের দখলে। ভারত ৫ শতাংশ। আর উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, এর সিংহভাগই যায় আমেরিকায়। ভারতের থেকে হাতেবোনা, ডিজাইনার কাজ করা... এমন নানাবিধ জামাকাপড় আমদানি করে মার্কিন ওয়ালমার্ট, মেসি’স, টার্গেট, গ্যাপের মতো সংস্থা। শুল্কযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের কী অবস্থা? মার্সেডিস ক্যান্ডলার নামে এক মার্কিন নাগরিক ওয়ালমার্ট ঘুরে ঘুরে একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিও করেছেন। তাতে কী দেখাচ্ছেন তিনি? শুধু প্রাইস ট্যাগ। ঢালাও কাজ চলছে ওয়ালমার্টে। জামাকাপড়ের র্যাকের উপরের দাম বদলে গেছে। কিন্তু সব গারমেন্টের প্রাইস ট্যাগ এখনও নতুন লাগেনি। তাই ১২ ডলারের জামার র্যাকে পুরনো ১১ ডলারের ট্যাগ এখনও দৃশ্যমান। ব্যাকপ্যাক যেটা ছিল ১৯ ডলার, এখন সেটাই ২৪। কিন্তু শুল্ক তো সদ্য চাপানো হয়েছে! এত তাড়াতাড়ি তো তার প্রভাব পড়ার কথা নয়। তাও পড়ছে। কারণ এটা প্রাথমিক ধাক্কা। দাম কিছুটা আগেই বাড়িয়ে রাখা। যাতে একধাক্কায় অনেকটা বাড়াতে না হয়। একটু গা-সইয়ে নেওয়া যাকে বলে। ওয়ার্ম আপ চলছে মার্কিন বাজারের। নাগরিকদের বোঝানো হচ্ছে, তৈরি থাকুন। মূল্যবৃদ্ধির সাইক্লোনের জন্য। সৌজন্যে? শুল্কযুদ্ধ। আর হ্যাঁ, তালিকা কিন্তু বেশ লম্বা... ওষুধ, পরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য, চিংড়ি, রত্ন, গয়না। এর বেশিটাই আমেরিকা আমদানি করে ভারত থেকে। বিশেষত হিরে, মুক্তো, আর পাথর বসানো সোনার গয়না। ভারতের মোট রত্ন ও গয়না রপ্তানির ৩০ শতাংশই যায় আমেরিকায়। ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপার পর হয় দাম বাড়াতে হবে, না হলে আমদানির জন্য অন্য দেশ খুঁজতে হবে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই লোকসান মার্কিন সাধারণ ক্রেতার। হয় তিনি বেশি দাম দেবেন, না হলে কোয়ালিটির সঙ্গে আপস করবেন। প্রাথমিক ধাক্কা এলেও আখেরে ভারতের কিন্তু মারাত্মক লোকসান হবে না। কিছু সংস্থা অবশ্য উৎপাদনের জন্য নতুন হাবের খোঁজ শুরু করেছে। যেমন, দুবাইতে প্রোডাকশন এবং সেখান থেকে আমেরিকায় রপ্তানি করলে শুল্ক বেশি চাপবে না। তাই চলো দুবাই। এই অংশটি অবশ্যই ভারতের ক্ষতি। কিন্তু এমন সংখ্যাটাও মারাত্মক নয়। উল্টোদিকে, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে নয়াদিল্লির কাছে। তা সে মুক্তো হোক বা চিংড়ি।
একটা ছোট পরিসংখ্যান দেখা যাক। গত বছর আমেরিকা রেকর্ড পরিমাণ চিংড়ি আমদানি করেছিল... ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭২৩ টন। আর তার মধ্যে ভারত থেকেই গিয়েছিল কত? ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ১২৭ টন। এই বাজারটা কার্যত পুরোটাই বন্ধ হয়ে যাবে আমেরিকার নাগরিকদের কাছে। তখন কোন দেশ সেই মার্কেটটা ধরবে? থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের মতো প্লেয়াররা। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্তিনাও আছে দৌড়ে। এখানেই গুণমানের সঙ্গে আপসের শুরুয়াত। স্রেফ ভৌগোলিক কারণে ভারতে যে চিংড়ির উৎপাদন হয়, তা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। থাইল্যান্ড থেকে যে চিংড়ি যাবে, তাতে বাগদা-গলদার লালচে আভা থাকবে না। এই স্বাদও পাওয়া যাবে না। মার্কিন নাগরিকরা তা মেনে নেবে তো? ধরা যাক, তাঁরা মেনে নিলেন। শিল্প সংস্থাগুলি কতটা মানবে? ভারত যদি পাল্টা ৫০ শতাংশ শুল্ক আমেরিকার উপর চাপায়, এত বড় বাজারটাই তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। একটা ছোট পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। ভারতে ৬৪ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হয়। তার মধ্যে ৩ কোটি ২০ লক্ষ আইফোন। গত বছরের এই হিসেব বলছে, হু হু করে ভারতে বাড়ছে আইফোন গ্রাহকের সংখ্যা। এখনই তা মোট গ্রাহকের ৫ শতাংশ। গত বছর অ্যাপল সংস্থা আইফোন বিক্রি করে ভারতে রেভেনিউ বাড়িয়েছে ৪২ শতাংশ। ৬০ হাজার টাকার আইফোন যদি ১ লক্ষ টাকা হয়, তাহলে ভারতের কত শতাংশ মানুষ আর সেটা কিনবে?
মূল্য কিন্তু চোকাতে হবে ট্রাম্পের আমেরিকাকেই। ২০২৫’এর প্রথমার্ধে মার্কিন মুলুকে মুদ্রাস্ফীতির হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি। কর্মসংস্থানে গতি নেই, পরিষেবা সেক্টর ধুঁকতে শুরু করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে কিন্তু বদল এসেছে অভ্যন্তরীণ কর ব্যবস্থাতেও। উৎপাদন কোথায় হচ্ছে, সেসব না দেখে বহু পণ্যের উপরই সমহারে কর চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। আমেরিকানদের উপর কার্যকরী শুল্কের হার এখন ১৮ শতাংশের আশপাশে। নিত্যপণ্যেও দাম দেখে কেনার উপায় থাকছে না। সবই চড়া দরের। তাহলে এর থেকে মুক্তির কি উপায় নেই? আছে। মহানুভব ট্রাম্প মহাশয় যদি মনে করেন। যখন তাঁর মুড হয়। ততদিন ভুগতে হবে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের। পণ্য-পরিষেবা বাছাইয়ের অধিকার হারিয়ে ফেলছে তারা। আরও এক মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। শুরু হয়েছে লবিবাজি। খুঁটি ধরতে সক্ষমরা মার্কেটে জায়গা করছে। হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতা। ট্রাম্প যতদিন কুর্সিতে আছেন, মার্কিন সংস্থাগুলির এই লবিং জমি বানিয়ে ফেলবে। ভবিষ্যতে কোনও প্রেসিডেন্ট যদি শুল্কে কাটছাঁট করতে চান, তিনি পড়বেন সংস্থাগুলির প্রবল প্রতিরোধের মুখে।
অস্কার জয়ী অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের একটি ভাষণ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। কী বলেছিলেন তিনি?... ‘কারা আমরা? কী এই হলিউড? আমি নিউ জার্সির একটা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছি। এসেছি রোড আইল্যান্ডস থেকে। সারা পলসন অভিবাসী পরিবারের। ফ্লোরিডায় তাঁর সিঙ্গল মাদারের কাছে বড় হয়েছেন। এমি অ্যাডামসের জন্ম ইতালির ভেনজো ভেনোতে। আর নাতালি পোর্টম্যানের জেরুজালেমে। আমাদের রুথ নেগা জন্মেছিলেন ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায়, বড় হয়েছেন আয়ারল্যান্ডে। রায়ান গাসলিং কানাডার প্রত্যেক বন্ধুর মতোই সহৃদয়। আর দেব প্যাটেল? জন্ম কেনিয়ায়, বড় হয়েছেন লন্ডনে, এই পুরস্কার মঞ্চে যে সিনেমার জন্য তিনি মনোনীত হয়েছেন, তাতে তাঁর চরিত্র এক ভারতীয়ের। এর অর্থ একটাই, হলিউড চলছে সেটা বিদেশিদের জন্য। বহিরাগতদের জন্য। আমরা যদি তাঁদেরই লাথি মেরে বের করে দিই, তাহলে ফুটবল এবং জগাখিচুড়ি মার্শাল আর্ট ছাড়া দেখার কিছু থাকবে না। আর সেটা যাই হোক, আর্ট নয়।’ বার্তাটি হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে পৌঁছে দিয়েছিলেন ডাকসাইটে এই অভিনেত্রী—আমেরিকার সংস্কৃতি শুধু তাদের ম্যাপের চৌহদ্দিতে সীমাবদ্ধ নয়। জোর করে সেটা চাপাতে গেলে আমেরিকা আর গ্রেট থাকবে না। এই সত্যিটা ব্যবসা, আর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রযোজ্য। ও হ্যাঁ, এখানে আর একটা পরিসংখ্যান মনে পড়ল—শুধু হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে বছরে আমেরিকা কত আয় করে? ৫০ হাজার কোটি ডলার। পায়ে মারার জন্য কুড়ুলটা বেশ বড়ই বেছেছেন ট্রাম্প।