কায়রো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে মিশরে গিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়লেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর সামনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ট্রাম্প। ভরা সভায় শাহবাজকে পাশে নিয়ে মর্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয়, ভারত-পাকিস্তান একসঙ্গে ভালোভাবেই থাকবে। ঠিক তো?’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে হকচকিয়ে যান পাক প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরেরও তারিফ করেন ট্রাম্প। এই ঘটনা নিয়ে মোদিকে একহাত নিয়েছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, মোদি তো ট্রাম্পকে তাঁর ভালো বন্ধু বলেন। ট্রাম্পের মুখেও একই কথা শোনা যায়। কিন্তু এ কেমন বন্ধুত্ব? যাঁর বিষাক্ত মন্তব্যের পরই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা পহেলগাঁওয়ে হামলা চালিয়েছিল, সেই মুনিরকে হোয়াইট হাউসে ডেকে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছিলেন ট্রাম্প। তারপর আবার অক্টোবরেও মুনিরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এখন মিশরে পাক সেনা প্রধানকে বাহবা দিলেন। আর শাহবাজকেও বিশেষ সমাদর করলেন। এভাবে ভারতকে কী ধরনের বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প? সোমবার মিশরের শার্ম-এল-শেখে বসেছিল গাজার শান্তি সম্মেলন। উপস্থিত ছিলেন বহু হেভিওয়েট রাষ্ট্রনেতা। অনুষ্ঠানে মোদি-শাহবাজ দু’জনকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাক প্রধানমন্ত্রী মিশর এলেও মোদি নিজে সেখানে যাননি। তবে সম্মেলনে শাহবাজের সামনে দাঁড়িয়ে মোদির ভূয়সী প্রশংসা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বললেন, ‘ভারত দারুন দেশ। ভারতের নেতৃত্বে যিনি রয়েছেন তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। খুব ভালো কাজ করছেন।’ এরপরেই পাক প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ট্রাম্পের প্রশ্ন, ‘আমার মনে হয় পাকিস্তান আর ভারত একসঙ্গে ভালোভাবে থাকবে। তাই না?’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশ্নে সমস্যায় পড়ে যান পাক প্রধানমন্ত্রী। হেসে সম্মতি জানানো ছাড়া কিছুই করতে পারেননি তিনি। বক্তৃতায় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নিজের ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’এর তকমা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল কিন্তু পাকিস্তানের। তিনি আজ এখানে নেই। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত রয়েছেন।’ মোদি-মুনিরের প্রশংসা শুনে মহা ফাঁপরে পড়ে যান পাক প্রধানমন্ত্রী। শেষপর্যন্ত নিজের পাঁচ মিনিটের বক্তৃতায় শাহবাজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সত্যিই শান্তির মানুষ। আমি তাঁকে ফের একবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলাম। কারণ উনি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচাননি। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করে পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক লক্ষ প্রাণ বাঁচিয়েছেন।’



