Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেশখালিতে ট্রাকের ধাক্কা: শাহজাহান ঘনিষ্ঠ ‘মাস্টার মাইন্ড’ আলিম গ্রেফতার

সন্দেশখালিতে ট্রাকের ধাক্কা কাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত আলিম মোল্লা। সোমবার ভোরে মিনাখাঁ থেকে শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ ‘মাস্টার মাইন্ড’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বসিরহাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক আলিমকে ৯দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠিয়েছেন।

সন্দেশখালিতে ট্রাকের ধাক্কা: শাহজাহান  ঘনিষ্ঠ ‘মাস্টার মাইন্ড’ আলিম গ্রেফতার
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: সন্দেশখালিতে ট্রাকের ধাক্কা কাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত আলিম মোল্লা। সোমবার ভোরে মিনাখাঁ থেকে শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ ‘মাস্টার মাইন্ড’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বসিরহাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক আলিমকে ৯দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠিয়েছেন।  প্রসঙ্গত, বসিরহাট আদালতে যাওয়ার পথে গত ১০ ডিসেম্বর ইডি মামলার সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষকে ট্রাকের ধাক্কায় ‘খতম’ করার ছক রূপায়ণের ভার পেয়েছিল শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ শাগরেদ আলিম মোল্লা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্রুত গতিতে চালিয়ে এনে ট্রাক দিয়ে ধাক্কা মারা হয় ভোলানাথবাবুর গাড়িকে। চালকের পাশের আসনে বসতে অভ্যস্ত ভোলানাথবাবু বেঁচে যান পিছনের সিটে বসার জন্য। ঘাতক ট্রাকের ধাক্কায় মারা যান তাঁর ছোট পুত্র সত্যজিৎ ঘোষ ও গাড়ির চালক শাহিনুর মোল্লার। সূত্রের খবর, ঘটনার পর সন্দেশখালি ছেড়ে ক্যানিংয়ের জীবনতলা এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছিল আলিম। পলাতক অবস্থায় আর্থিক সংকটে পড়া আলিমের সঙ্গে  যোগাযোগ করেছিল তার এক পরিচিত। সেই সূত্র ধরে ফাঁদ পাতে পুলিশ। পাকড়াও হয় ট্রাক ধাক্কা কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।  ট্রাক ধাক্কা কাণ্ডে খুনের মামলা দায়ের হয় ন্যাজাট থানায়। তদন্ত নেমে পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অধরা ছিল মূল ‘কারিগর’ আলিম মোল্লা। 

Advertisement

সূত্রের খবর, ভোলানাথবাবুর গাড়িতে ধাক্কা মারার পর একটি বাইকে চেপে নিজের বাড়ি লাউখালিতে চলে আসে সে। নিজের বাড়িতে দু’দিন আত্মগোপন করার পর রাতের অন্ধকারে চলে যায় সরবেড়িয়ায় এক আত্মীয়র কাছে। সেই আত্মীয়ের বাড়িতে দু’দিন গা ঢাকার মাঝে জোরকদমে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। আলিম চলে যায় ক্যানিংয়ে। সেখানেও এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। এরমধ্যে তাকে টাকা দিয়ে আসে শাহজাহানের এক বিশ্বস্ত সৈনিক। তার মাধ্যমেই হদিশ মেলে আলিমের। বিভিন্ন সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তাকে দিয়ে আলিমকে ফোন করায় পুলিশ। সেই মতো সোমবার সকালে আলিমকে টাকা নিতে মিনাখাঁর মালঞ্চতে আসতে বলা হয়। মালঞ্চতে আসতেই আলিমকে পাকড়াও করে পুলিশ। যদিও এই পরিকল্পনার কথা অবশ্যই অস্বীকার করছে তদন্তকারীরা। এ নিয়ে বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা ছিল আলিম মোল্লা। সেদিনের ঘাতক ট্রাকটি চালাচ্ছিল গোলাম হোসেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রে সামিল হওয়া আলিমকে এদিন সকালে মিনাখাঁ থেকে গ্রেফতার করা গিয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘাতক ট্রাকের মালিক আব্দুস সামাদ এখন পলাতক। নজরুল মোল্লা গাড়িটি দেখভাল করত। 
এদিকে ভোলানাথ ঘোষ বলেন, পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করছে। কিছুটা হলেও স্বস্তিতে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত। এটা পরিকল্পনামাফিক খুন। তাই বাকিদেরও গ্রেফতার করতে হবে। শাহজাহান যেহেতু জেলে বসে এই খুনের পরিকল্পনা করেছে, তাই ওকে অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হোক। না হলে আরও পরিকল্পনামাফিক খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। সূত্রের খবর, এই খুনের ‘বরাত’ নজরুলকে দেয় শাহজাহান। খুনের ‘সুপারি’ হিসেবে পাঁচ লক্ষ টাকা পেয়েছিল আলিম মোল্লাও। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে গোটা ঘটনার সঠিক রিপোর্ট হাতে পেতে চাইছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ