নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কৃষ্ণনগর: দুটি সাংগঠনিক বৈঠকে তৃণমূলের তরফে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হল, নির্দেশ অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না দল। জনপ্রতিনিধি থেকে সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, সকলের কাজ দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা। যে বা যাঁরা দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজেদের মর্জিমতো চলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলগত কড়া অবস্থান নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার ক্যামাট স্ট্রিটে শ্রীরামপুর ও মেদিনীপুর সাংঠিনিক জেলা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কোন কেন্দ্রে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি কেমন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে বৈঠকে। ফাঁকফোকর ভরাট করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, বৈঠকে অভিষেক বলেছেন, প্রত্যেক বিধানসভা আসনে জয়ের টার্গেট নিয়ে ঝাঁপাতে হবে। যে বিধানসভা আসনগুলি তৃণমূলের হাতে আছে সেখানে তৃণমূলের ভোট শতাংশের হার বাড়াতে হবে। আর বিরোধীদের হাতে থাকা বিধানসভা আসনগুলিতে জোড়াফুল ফোটাতে হবে। সকলে একযোগে কাজ করবেন।
এদিন কৃষ্ণনগর পুরসভা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তৃণমূল ভবনে বৈঠক হয়। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার প্রমুখ ছিলেন। সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক উজ্জল বিশ্বাস ও পুরসভার কাউন্সিলররা হাজির ছিলেন বৈঠকে। দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন পুরসভার চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে কেন অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের মুখে পড়েন কৃষ্ণনগরের নেতারা। দলের নির্দেশ ছিল, এখন কোনও অবস্থায় পুরসভায় অনাস্থা আনা যাবে না। কিন্তু চেয়ারপার্সন রীতা দাসের বিরুদ্ধে কেন অনাস্থা আনা হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্য নেতৃত্ব। রীতা দাসের বিরোধী গোষ্ঠীর আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের রাজ্য নেতারা। বৈঠকে কথা হয়েছে কয়েকজন কাউন্সিলার যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তাতে পুরভোটে ওই নির্দিষ্ট কাউন্সিলারদের টিকিট দেওয়ার আগে বিষয়টি মাথায় রাখা হবে।