Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বলাগড়ে অসীমাকে এনে মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের, ভেস্তে গেল বিজেপির ছক

হুগলির বলাগড়ে বিজেপির পায়ের তলার মাটি শক্ত করার স্বপ্ন ভেস্তে গেল একধাক্কায়। তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব কার্যত এক চালেই কিস্তিমাত করেছে।

বলাগড়ে অসীমাকে এনে মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের, ভেস্তে গেল বিজেপির ছক
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির বলাগড়ে বিজেপির পায়ের তলার মাটি শক্ত করার স্বপ্ন ভেস্তে গেল একধাক্কায়। তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব কার্যত এক চালেই কিস্তিমাত করেছে। এসআইআর আবহে বলাগড়ে এক কদম এগিয়ে খেলতে গিয়ে পদ্মপার্টি তা প্রতিপদে ঠাহর করছে। সম্প্রতি বলাগড়ে একাধিক জায়গায় বিএলওদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। তারা ভেবেছিল, নানা কারণে বলাগড়ের উপর শাসকদলের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু বাস্তবের ছবিটি ভিন্ন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই শাসকদলের কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপিকে। হাওয়া বুঝে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এই সুযোগে তৃণমূলের কর্মীরা বুথ স্তরে বহাল তবিয়তে নজরদারি ও জনসংযোগের কাজ সেরেছেন।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চর্চা। বিজেপির অন্দরমহলের দাবি, ফাঁকা মাঠ পাওয়ার যে ভাবনা ভাবা হয়েছিল, তা বাস্তব রূপ পায়নি। কর্মীরা কাজ করতে গিয়ে কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির বেড়ে রাখা ভাতে ছাই দিয়ে তৃণমূলের মনোবল এখন তুঙ্গে। এখানেই উঠে এসেছে শাসকদলের রাজ্য নেতৃত্বের মাস্টার স্ট্রোকের প্রসঙ্গ। বিষয়টি কী? হুগলির রাজনীতিতে নানা কারণে বলাগড়ের সাংগঠনিক অবস্থা কিছুটা ভিন্নরকম। সেখানে গত বিধানসভা ভোটে এক অরাজনৈতিক ব্যক্তি দলের বিধায়ক হয়েছিলেন। তাতে নীচুতলায় কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের সমস্যা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে এবার হুগলির বলাগড়ের জন্য নতুন ব্লক সভাপতি দেয়নি রাজ্য নেতৃত্ব। পরিবর্তে পোড়খাওয়া নেত্রী তথা দলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্রকে মাথায় রেখে কমিটি করা হয়। তাতে বলাগড়ের প্রায় সমস্ত প্রভাবশালী নেতাকে রাখা হয়। সেটাই তৃণমূলের সাংগঠনিক বৃত্তে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। পাশাপাশি, মহিলা এবং ধনেখালির নেত্রী হলেও অসীমাদেবী ডাকাবুকো রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। দলের অন্দরে তাঁর দাপট আছে। তাতেই বিজেপির পাকা ধানে মই পড়েছে। বিজেপির এক প্রবীণ সংগঠক বলেন, বলাগড়ের তৃণমূল মাঝি বিহীন নৌকার মতো চলছিল। তাই আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। অথচ বাস্তবে কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েছি। যদিও বিজেপির হুগলি জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, অসীমা পাত্র ধনেখালিতে যে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছেন, তারই নতুন মডেল হয়েছে বলাগড়। আমাদের কর্মীরা এসআইআর আবহে বারবার আক্রান্ত হয়েছেন। রাজনীতি নয়, গুন্ডানীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। বলাগড়ের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। ইভিএমে তাঁরা জবাব দেবেন। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় অসীমাদেবী বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব যে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অভাবনীয়। বিজেপির বাঙালি বিরোধিতার রাজনীতি স্থানীয় মানুষই রুখে দিয়েছে। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, নেতা-কর্মীরা একজোট হয়ে লড়ছেন। বলাগড় আগামী দিনে ইতিহাস গড়বে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ