নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কালীপুজোর প্যান্ডেল বানাতে বাঁশ ও কাঠ চেয়েছিল পুজো কমিটি। ভাড়া ছাড়া তা দিতে চাননি স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রি। পুজো কমিটি হাজার টাকা চাঁদাও চায়। তিনি ৫০০ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। পুজো কমিটি জানিয়েছিল, রাস্তার ধারে রাখা বাড়ি তৈরির কাঠ ও বাঁশ সরাতে হবে। তা না সরানোয়, পানিহাটি উত্তর যুব তৃণমূল সভাপতি অর্জুন চক্রবর্তী ওরফে বান্টির নেতৃত্বে তাঁকে মারধর, বাড়িতে হামলা ও এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই যুব তৃণমূল সভাপতি সহ মোট ছ’জনের নামে ঘোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যদিও বান্টি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পানিহাটি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোদপুর নবীনাচল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন রাজমিস্ত্রি মিলন মণ্ডল। সোদপুরের ভাড়া বাড়ি লাগোয়া রাস্তার ধারে কাঠ ও বাঁশ ডাঁই করে রেখেছিলেন। ওই এলাকায় নবীনাচল উন্নয়ন সমিতির কালী পুজোর আয়োজন হচ্ছিল। মিলনবাবুর অভিযোগ, গত ১৮ তারিখ স্থানীয় উন্নয়ন সমিতির কর্তারা মণ্ডপ তৈরির জন্য কাঠ ও বাঁশ চায়। বিনিময়ে ভাড়া চাইতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন সমিতির সদস্যরা। তাঁকে হুমকি দিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার কাছে ফের চাঁদা চাইতে আসেন সমিতির সদস্যরা। তিনি ৫০০ টাকা দেবেন বলে জানান। এনিয়ে বচসাও হয়। কালীপুজোর দিন তিনি সদস্যদের কাছে জানতে চান, সত্যিই তাঁকে ওই কাঠ ও বাঁশ সরাতে হবে কি না। তখন তাঁকে প্রচণ্ড গালিগালাজের পাশাপাশি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই রাতে ফের সমিতির সদস্যরা মিলনের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। পরদিন মধ্যরাতে ফের দলবল নিয়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির ভাড়ার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। দরজা ও জানালা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজ করা হয়। মিলনবাবু বলেন, আমি চরম আতঙ্কে রয়েছি। ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় থাকছি। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমি হইনি। পুজোর দিন অর্জুনবাবুর নেতৃত্বে আমায় মারধর ও গালিগালাজ করা হয়েছিল। আমাকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুব তৃণমূল নেতা অর্জুন চক্রবর্তী ওরফে বান্টি বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ। পরিকল্পনামাফিক আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। বচসার দিন আমি এলাকাতেই ছিলাম না। দলেরই একাংশ পরিকল্পনা করে আমার নাম জড়িয়েছে। যিনি আমার নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁর বাড়িতে নানা অসামাজিক কাজ হয়। তার প্রতিবাদ করেছিল পাড়ার লোকেরা। তাই এমন অভিযোগ।