সংবাদদাতা তারকেশ্বর: তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় প্রাক্তন প্রধান সহ ৮ সিপিএম কর্মীর যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল চুঁচুড়া আদালত। ১৫ বছর আগে ছেলের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দিন নৃশংস খুন হয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী ক্ষুদিরাম হেমব্রম(৪০)। সেই খুনের মামলায় মঙ্গলবার ৮ সিপিএম কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা ও আর্থিক জরিমানা ঘোষণা করেন চুঁচুড়া আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সঞ্জয় কুমার শর্মা। এই খুনের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন দু’জনের মৃত্যু হয়।
২০১০ সালে ১৮ মার্চ মাঠের কাজ শেষ করে বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম। বন্ধু তপন রুইদাসের বাড়ি থেকে আর ফেরা হয়নি। পরেরদিন নদীর ধারে ক্ষুদিরামের বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক কারণেই এই খুন। লিখিত অভিযোগ হয় গুড়াপ থানায়। গ্রেফতার হয় ১০ জন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় ১৫ বছর চলে বিচার প্রক্রিয়া। ধৃতের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হয়। ১২ জন সাক্ষী ছিলেন এই মামলায়। বিচার পর্ব চলার সময় দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। বাকি ৮ জন জামিনে মুক্ত ছিল।
ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা ক্ষুদিরাম হেমব্রমকে তৎকালীন প্রধান লালু হাঁসদার নেতৃত্বে নৃশংসভাবে হত্যা করে সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা। বন্ধু তপনের বাড়িতে ক্ষুদিরামকে মারধর করে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। অভিযোগ ছিল, তপনের হাতে কোদাল ধরিয়ে দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা সেই রক্ত সাফ করানো হয়েছিল। বন্ধুর স্ত্রীকে সেই মাটি লেপা করানো হয়। ২০১০ সাল থেকে হেমব্রম পরিবারকে ধনেখালির কোটালপুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০১১ তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর তারা বাড়িতে ফেরে। প্রায় ১৫ বছর পর বাম আমলের অত্যাচারের দোষীদের সাজা ঘোষণা হল।
সাজা প্রাপ্ত সিপিএম কর্মী লালু হাঁসদা, লক্ষ্মীরাম বাস্কে, লক্ষ্মীনারায়ণ সোরেন, নমা টুডু, সিদ্ধেশ্বর মালিক, সনাতন মালিক, রবি বাস্কে ও গণেশ মালিক। মামলা চলাকালীন দুই অভিযুক্ত অমর রুইদাস ও নেপাল মালিকের মৃত্যু হয়। মামলার সরকারি আইনজীবী চণ্ডী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,আইনের লড়াইতে পরিবার ন্যায় বিচার পেয়েছে। এই মামলায় পুলিশের তদন্তকারী অফিসার নির্দিষ্ট সময়ে চার্জশিট জমা দেওয়ায় অভিযুক্তরা কেউ রেহাই পায়নি। মৃতের স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ জেলা লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। হুগলির পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন বলেন, আইন ও পুলিশ প্রশাসনের উপর আস্থা মজবুত করেছে আদালতের এদিনের রায়।