Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হৃদরোগে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর, মেদিনীপুরে কাঠগড়ায় এসআইআর

বাম আমলে সন্ত্রাসের জেরে তাঁকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। ফলে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ওঠেনি তাঁর। এবার এসআইআর শুরু হওয়ায় প্রবল মানসিক চাপে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হল সেই তৃণমূল কর্মীর।

হৃদরোগে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর, মেদিনীপুরে কাঠগড়ায় এসআইআর
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাম আমলে সন্ত্রাসের জেরে তাঁকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। ফলে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ওঠেনি তাঁর। এবার এসআইআর শুরু হওয়ায় প্রবল মানসিক চাপে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হল সেই তৃণমূল কর্মীর। এমনই অভিযোগ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতাদের। অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম শ্যামল বসু (৬৭)। তাঁর আদিবাড়ি কেশপুর ব্লকের শোলিডিহা এলাকায়। সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তিনি মেদিনীপুর শহর লাগোয়া আবাস গড়ে থাকতে শুরু করেন। এক তৃণমূল নেতার কথায়, বেশকিছুদিন ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন শ্যামলবাবু। এনিয়ে মেদিনীপুর ও কেশপুরের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ করেন। বুধবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরাও মানসিক চাপে থাকার কথা জানিয়েছেন।

Advertisement

এদিন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, বিজেপি বারংবার মানুষকে সমস্যায় ফেলছে। এসআইআরের চিন্তায় বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় উনি খুবই চিন্তায় ছিলেন। বিজেপি মানুষকে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দেবে না। কেশপুরের তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, শ্যামল বসুর সঙ্গে একসাথে রাজনীতি করেছি। উনি সিপিএমের অত্যাচারে ঘরছাড়া ছিলেন। আর বিজেপির অত্যাচারে প্রাণ হারালেন। খুবই লজ্জাজনক ঘটনা। মানুষই এর জবাব দেবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামলবাবু খুবই নিরীহ স্বভাবের ছিলেন। মেদিনীপুর শহর লাগোয়া এলাকার ছোট্ট বাড়িতে শান্তিতে তাঁর দিন কাটাত। তবে বয়সজনিত কারণে ইদানীং তিনি খুব বেশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পারতেন না। এসআইআর শুরু হতেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দিবারাত্রি চিন্তা শুরু করেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের তালিকায় নাম নেই। এসআইআর শুরু হতেই তিনি তৃণমূল নেতাদের কাছে ছুটে যান। এমনকী ফোন করেও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান বলে খবর। তৃণমূল নেতাদের দাবি, শ্যামলবাবু আশঙ্কা করছিলেন, তাঁকেও হয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। এদিন শ্যামলবাবুর ছেলে সনৎ বসু বলেন, বাবা একটু টেনশনে ছিল এসআইআর নিয়ে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম ছিল না বাবার। কিছু মাথায় আসছে না।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪০ লক্ষ ভোটার রয়েছে। প্রায় একশো শতাংশ মানুষকে এসআইআরের ফর্ম দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ৮০ শতাংশের বেশি ফর্মের ডিজিটাইজেশনও সম্পন্ন হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় বলেন, স্থানীয় মানুষের থেকে বিষয়টি জানতে পেরে এলাকায় গিয়েছিলাম। বহু বয়স্ক মানুষ আতঙ্কে ভুগছেন।
তবে এনিয়ে কটাক্ষ করছে বিজেপি। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, যে কোনও মৃত্যু খুবই দুঃখের। কিন্তু এটা তৃণমূলের সাজানো। তৃণমূল সবেতেই এসআইআরের ভূত দেখতে পাচ্ছে। এসআইআর হওয়ায় তৃণমূলের ভয় বাড়ছে। কারণ, ভূতুড়ে ভোটার আর থাকবে না। 

সম্পর্কিত সংবাদ