সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: অণ্ডালের বিডিওর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বুধবার ধর্নায় বসলেন মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বাংলা আবাস যোজনায় প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাতিল করা হয়েছে। আগে বাড়ি পেয়েছে এমন উপভোক্তার নাম তালিকায় আছে। এছাড়াও পুরোহিত ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা সহ নানা সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। বিডিওকে বলেও কোনও সুরাহা মিলছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের অণ্ডাল ব্লকের সভাপতি কালোবরণ মণ্ডল বলেন, ওই প্রধানের অভিযোগ তাঁকে মানুষকে কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে। আমাদের মানুষের ক্ষোভের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিধায়কের মাধ্যমে বিডিওর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত। বিডিওর আশ্বাসে এদিন বিকেলে ধর্না উঠে যায়। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে আধিকারিকরা প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম বাতিল করেছে। প্রায় তিন হাজার বয়স্ককে বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও নানা সুযোগসুবিধা ও ভাতা থেকে এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পে পাইপলাইন বসাতে রাস্তা খু্ঁড়ে রাখা হয়েছে। এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এখনও বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছয়নি। জলকষ্টে জেরবার মানুষ। মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ দেওয়াসি বলেন, বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত পক্ষপাতিত্ব করছেন। রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। ফলে প্রতি মুহূর্তে মানুষের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের। বিডিওকে বলে কোনও কাজ হচ্ছে না। তাই বিডিও অফিসে ধর্নায় বসতে বাধ্য হয়েছি।বিজেপির রানিগঞ্জ বিধানসভার কনভেনার জয়ন্ত মিশ্রা বলেন, তৃণমূলের সরকার মানুষকে বঞ্চিত করছে। চুরি করছে। এই নিয়ে আমরা সরব হচ্ছি বার বার। সামনে নির্বাচন আছে তাই ওই প্রধান ধর্নায় বসে নাটক করছেন। দেবাঞ্জনবাবু বলেন,এই সমস্ত অভিযোগ সঠিক নয়। পুরোহিত ভাতা নিয়ে সমস্যা ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জলের সমস্যা রয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য ইসিএলের পরিত্যক্ত খনির জলাশয়কে কাজে লাগানো হচ্ছে। আবাস যোজনার কিছু অভিযোগ রয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র



