Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবারেই ৩টি বাড়ি নির্মাণের টাকা! মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ

দীর্ঘ যাচাইপর্ব শেষে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রথম দফার টাকা ছাড়া হয়েছে।

তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবারেই ৩টি বাড়ি নির্মাণের টাকা! মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দীর্ঘ যাচাইপর্ব শেষে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রথম দফার টাকা ছাড়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এক পঞ্চায়েত সদস্যের পরিবারই পেয়েছে তিনটি বাড়ি তৈরির টাকা! পঞ্চায়েত সদস্যের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি তৈরির প্রথম দফার ৬০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। আপাতত তিনটি বাড়ির টাকা একসঙ্গে করে বড় করে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। হাড়োয়ার চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে এলাকায়।  বিষয়টি জানাজানি হতেই পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বিডিও, জেলাশাসককে অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। শুধু তাই নয়, অভিযোগ জমা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বাড়ির টাকা দেওয়ার আগে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে তো সার্ভে হয়েছিল। তারপরেও এই কাণ্ড!

Advertisement

হাড়োয়া বিধানসভার অন্তর্গত চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের মামুরাবাদ গ্রামে কয়েকশো পরিবারের বসবাস। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে এই এলাকার বহু মানুষ বাড়ি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ জন মতো উপভোক্তা টাকা পেয়েছেন। এই ক’জনের মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য লুৎফর রহমান মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী তাহমিনা বেগম এবং ছেলে নাসির উদ্দিন মণ্ডলের নাম। প্রথম দফার টাকা পেয়েই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন লুৎফর। তিনজনের তিনটি আলাদা বাড়ি অবশ্য হচ্ছে না। টাকা এক জায়গায় করে একটিই বাড়ি তৈরি হচ্ছে। 
এনিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য লুৎফর অবশ্য অদ্ভুত যুক্তি সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় কেউই ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী টাকা পায়নি। ১০ জন মতো যাঁরা টাকা পেয়েছেন, প্রত্যেকেই দিদিকে বলোতে ফোন করে পেয়েছেন। আমি, আমার স্ত্রী ও ছেলে একইভাবে ফোন করে বাড়ির টাকা পেয়েছি। বাড়ির কাজও শুরু হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর রহমান, ইসমাইল মণ্ডলরা বলেন, ‘অনেকে ত্রিপলের ছাউনি বাড়িতে থাকেন। পঞ্চায়েত সদস্যকে বারবার বলেও বাড়ি মেলেনি। অথচ উনি তিনটি বাড়ি পেয়েছেন। আমরা বিডিও থেকে শুরু করে নবান্নে অভিযোগ জানিয়েছি।’ দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলম বলেন, ‘সার্ভের সময় কিছু ত্রুটির কারণে পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর স্ত্রী প্রথম দফার টাকা পেয়েছেন। তবে ওঁদের বলা হয়েছে, একজনকে টাকা ফেরত দিতে হবে। যে দু’টি বাড়ির টাকা পাবেন, তাও আলাদা আলাদা তৈরি হচ্ছে দেখালে তবেই মিলবে দ্বিতীয় দফার টাকা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ