নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূলের বারাসত ২ নম্বর ব্লক আপাতত সভাপতিহীন। এই পদে কে আসীন হবেন, তার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন নেতারা। কেউ মন্ত্রী, কেউ আবার বিধায়কের ‘দুয়ারে’ হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন সকাল থেকে। ইতিমধ্যেই ব্লক সভাপতি পদের জন্য উঠে এসেছে একঝাঁক নেতার নাম। তবে কার কপালে শিকে ছেঁড়ে সেদিকেই তাকিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা।
দীর্ঘদিন ধরে বারাসত ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন শম্ভু ঘোষ। তবে, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সেকারণে তাঁকে সরানোর জন্য অনেকে নানা চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সভাপতি হওয়ার জন্য বহু নেতাই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে অন্যরকম চরিত্র বারাসত ২ নম্বর ব্লকের। কারণ, এই ব্লকের অধীনে রয়েছে একদিকে মধ্যমগ্রাম, অন্যদিকে হাড়োয়া বিধানসভা। এই ব্লকটি তৃণমূলের বারাসত ও বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ওদিকে, বসিরহাট জেলার পর্যবেক্ষক মন্ত্রী সুজিত বসু। বারাসত ২ নম্বর ব্লকের মধ্যেই পড়ে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বিধানসভা কেন্দ্র মধ্যমগ্রাম। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ব্লকের সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে চর্চা চলছে কর্মীদের মধ্যে।
দলীয় একটি সূত্র বলছে, ব্লক সভাপতির দৌড়ে রয়েছেন তৃণমূল নেতা আব্দুল রউফ, ইফতিকার উদ্দিন, মেহেদি হাসান, আব্দুল হাই ও মনিরুল ইসলাম। রউফ দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা বলে পরিচিত। বর্তমানে তিনি তৃণমূলের বারাসত ২ নম্বর ব্লকের আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি। ইফতিকার বারাসত ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি দায়িত্ব সামলেছেন। মেহেদি হাসান বর্তমানে বারাসত ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। আব্দুল হাই দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। ‘ভালো কাজ’-এর জন্য সদ্য তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দপ্তর থেকে শংসাপত্র পেয়েছেন। আর মনিরুল দাদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচন এবং হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনে কোন নেতার ভূমিকা কী, তা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জয়ের মার্জিন কার এলাকায় বেশি, আর কার এলাকায় কম— তাও নজরে রেখেছে নেতৃত্ব।
তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ব্লক সভাপতি হওয়ার দৌড়ে থাকা নেতারা এখন নিয়মিত বিধায়কদের বাড়িতে ছুটছেন। এক্ষেত্রে অবশ্য দলের অবস্থান স্পষ্ট। বেশি গুরুত্বের কাজ, স্বচ্ছতা ও জনসমর্থন। শেষ পর্যন্ত কোনও তরুণ নেতা ব্লক সভাপতি দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নাম চূড়ান্ত করার আগে দলীয়স্তরে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে দল। এখন দেখার, শেষ হাসি কে হাসেন!