নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দেশপ্রাণ কলেজ সংলগ্ন সরকারি ১৩ডেসিমল জমির লিজ পেতে কলেজের সঙ্গে ঝাঁপাল তৃণমূল নেতাও। কলেজের সামনে ওই সরকারি জমি রয়েছে। সেখানে কলেজ একটি হস্টেল বানাতে চায়। ২০১১সালে নাগাদ কলেজের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করে দু’জন দখলকারীকে ওই জমি থেকে সরানো হয়। আচমকা সেই জমির লিজ পেতে দুরমুঠ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শ্যামল দাস জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে রেভিনিউ ইন্সপেক্টর সার্ভে করে রিপোর্টও জেলা ভূমি অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই কাঁথি-৩ ব্লকে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতি ওই জমির লিজ শ্যামলবাবুর পরিবর্তে দেশপ্রাণ কলেজকে দেওয়ার জন্য জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে আবেদন জানিয়েছে। ওই জমি কলেজ পেলে সেখানে হস্টেল হবে। কলেজের প্রিন্সিপাল সুবিকাশ জানা ওই জমির লিজ পেতে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে আবেদন জানিয়েছেন। এনিয়েই কাঁথি-৩ ব্লকজুড়ে তরজা শুরু হয়েছে। লিজের জন্য শ্যামলবাবুর আবেদন এবং তার ভিত্তিতে প্রসেস শুরু হয়ে যাওয়ার খবর জানাজানি হতেই হইচই শুরু হয়েছে।
কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ কালীপদ দোলাই বলেন, ওই জমি কলেজের হাতে গেলেই ভালো। কারণ, কলেজ ওই জায়গার উপর একটি হস্টেল নির্মাণ করতে চায়। শ্যামলবাবু ওই জমির লিজ চেয়ে আবেদন করেছেন বলে আমরা সময়মতো জানতে পারিনি। রেভিনিউ ইন্সপেক্টর সার্ভে করার পর বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে এনিয়ে মিটিং করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শ্যামলবাবুকে ওই জমির লিজ দেওয়া আটকাতে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে আপত্তিপত্র পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি ডিএলআরওর সঙ্গে আলোচনা করেছি।
এনিয়ে কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, আমরা ওই জমির লিজ পেতে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসে আবেদন করেছি। একেবারে কলেজ লাগোয়া ওই জমি আমরা পেলে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে কাজে লাগাব। দুরমুঠ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শ্যামলবাবু বলেন, কলেজের প্রচুর জমি রয়েছে। সেই জমি ওরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেনি। এখন সরকারি জমি পেতে চাইছে।