Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চলবে না ‘আমি-তুমি’র রাজনীতি বার্তা তৃণমূল সেনাপতি অভিষেকের, শতাধিক ভোটে পরাজিত বুথে সভাপতি বদল

২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে সমস্ত বুথে ১০০-র বেশি ভোটে তৃণমূল পরাজিত হয়েছে, সেইসব বুথের সভাপতি বদল করা হবে।

চলবে না ‘আমি-তুমি’র রাজনীতি বার্তা তৃণমূল সেনাপতি অভিষেকের, শতাধিক ভোটে পরাজিত বুথে সভাপতি বদল
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে সমস্ত বুথে ১০০-র বেশি ভোটে তৃণমূল পরাজিত হয়েছে, সেইসব বুথের সভাপতি বদল করা হবে। সেইসঙ্গে বদল করা হবে দলের বুথ লেভেল এজেন্ট-২। সংগঠনিক রদবদলের এই বিষয়টি দলীয় বৈঠকে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একবাক্যে উত্তর, পারফরম্যান্স বা যোগ্যতাই হল মাপকাঠি। কোনও নেতার পা ধরে পদ টিকিয়ে রাখা যাবে না। দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক।

Advertisement

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সাংগঠনিক পরিসরে ঝাড়াই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যে তৃণমূলের জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন শাখা সংগঠনের জেলাভিত্তিক পদে বদল করা হয়েছে। আগামী দিনে ব্লক এবং টাউনের ক্ষেত্রেও রদবদল হতে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বুথ সভাপতিদের ক্ষেত্রেও যে বদল আসন্ন সেটা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি এটাও জানিয়েছেন, দলে ‘আমি-তুমি’ রাজনীতি চলবে না। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করতে হবে। বুথের সভাপতি সঙ্গে অঞ্চল সভাপতি কিংবা বিধায়কের সঙ্গে ব্লক সভাপতির গন্ডগোল বরদাস্ত নয়। দলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে না পারলে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দলের বৈঠকে একগুচ্ছ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন অভিষেক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তরফে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ শিবির চলছে। এই শিবিরকে সাফল্যের রূপ দিতে সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলার থেকে পঞ্চায়েতের প্রধানের সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। সেইসঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, প্রত্যেক বাড়ি গিয়ে এই কর্মসূচির বিষয়টি জানাতে হবে। প্রত্যেক বুথে করতে হবে পথসভা। হ্যান্ডবিল তৈরি করে তা বিলি করতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ এবং প্রত্যেকটি এলাকায় ছোট আকারের সভা করতে হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় বিজেপি হেরে যাওয়ার পর থেকে কী ধরনের বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে, তা সবিস্তারে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের।
এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপির আসন সংখ্যা বাংলায় ১৮ থেকে ১২ করা গিয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ থেকে ৩০-৪০-এ নামিয়ে আনার এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের জামানত জব্দ করার রণকৌশল জানিয়েছেন অভিষেক। এদিন বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ‘ভাষা আন্দোলন’ কর্মসূচি গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ