Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংগঠনের ক্ষেত্রে এবার কড়া তৃণমূল, যাঁরা গা ছাড়া দিয়ে কাজ করছেন তাঁদের শাস্তির মুখে পড়ার ইঙ্গিত

জনপ্রতিনিধি বা দলীয় পদাধিকারী, যে দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা যোগ্যতার সঙ্গে পালন করতেই হবে। গা ছাড়া দিয়ে কাজ করছেন এমন নেতাদের উপর এবার নজরদারি শুরু করল তৃণমূল।

সংগঠনের ক্ষেত্রে এবার কড়া তৃণমূল, যাঁরা গা ছাড়া দিয়ে কাজ করছেন তাঁদের শাস্তির মুখে পড়ার ইঙ্গিত
  • ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: জনপ্রতিনিধি বা দলীয় পদাধিকারী, যে দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা যোগ্যতার সঙ্গে পালন করতেই হবে। গা ছাড়া দিয়ে কাজ করছেন এমন নেতাদের উপর এবার নজরদারি শুরু করল তৃণমূল। আগামী দিনে ওই সমস্ত নেতাদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।

Advertisement

রাজনৈতিক পরিসরে লোকসভা এবং বিধানসভার ভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কেননা লোকসভার ভোটের মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন হয়। আর বিধানসভার ভোটের মধ্যে দিয়ে সেই রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় কারা আসবেন তা নির্ধারিত হয়। সেহেতু লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে জয়ের জন্য প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে চায় না। আর যখন রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় রয়েছে তৃণমূল, তখন তাদের কাছে বিধানসভা ভোটটা বিরোধীদের থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলে থাকেন, যেহেতু শাসনব্যবস্থায় তৃণমূল রয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়ে আরো এগিয়ে যেতে তাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা থাকে। কিন্তু সবটাই নির্ধারিত হয় বিধানসভা ভোটে জয়ের পর। ফলে বিধানসভা ভোটে বেশি আসন নিয়ে যে দল সরকারে আসতে পারবে তাদের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুবিধা হয়। 

বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। দলের সমস্ত নেতা-কর্মীদের ভোট ময়দানে নেমে পড়ার নির্দেশ আগিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে খবর এসেছে, কলকাতা এবং জেলা মিলিয়ে বেশ কয়েকজন নেতা দলের জন্য সঠিকভাবে কাজ করছেন না।  তাঁদের মধ্যে যেমন সংসদ, বিধায়কের মতো জনপ্রতিনিধিও আছেন, তেমনি বড় পদ পাওয়া তৃণমূল নেতাও আছেন। তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক নেতা জানিয়েছেন, কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় পদাধিকারী চেয়ার পেয়ে সর্বেসর্বা করছেন। তাঁদের এমন ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে, বিধানসভা ভোট আমরা এমনি পার হয়ে যাব। এখন না নামলেও চলবে। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর নামলেই হবে। কিন্তু এই মনোভাবের সঙ্গে দলের অবস্থান এক নয়। তৃণমূলের ঘোষিত বক্তব্য হল, আগামী তিন থেকে চার মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। দলের সমস্ত জনপ্রতিনিধি, নেতা-কর্মীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করতে হবে। যাঁরা এই কাজটা করছেন না বা গাফিলতি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের প্রত্যেকের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, নেতা, কর্মীরা কেমন কাজ করছেন, তা নিজস্ব সোর্স মারফত খবর রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক গ্রাউন্ড রিপোর্ট সংগ্রহ করছে। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, নেতাদের যে হোম টাস্ক দেওয়া হচ্ছে, সেটা সঠিকভাবে নেতারা পালন করছেন কিনা সেটার দিকেও নজরদারি রাখছে আইপ্যাক। প্রত্যেকদিন তারা রিপোর্ট তৈরি করছে। এছাড়া দলের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিধানসভা ভিত্তিক যে ওয়ার রুম বা যুদ্ধ ঘর তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে প্রতিদিন রিপোর্ট আসতেই হবে রাজ্যের কাছে। ফলে তৃণমূল এখন সংগঠন নিয়ে অনেক বেশি কঠোর। অনেক বেশি রক্ষণশীল  আগামী দিন যাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন না, তাঁদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ