রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: গত পাঁচ বছরে একবারের জন্যও বিধানসভা অধিবেশনে মুখ খোলেননি, এমন একাধিক বিধায়কের নাম উঠে এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে। বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল কিংবা প্রস্তাবের উপর আলোচনায় কোনও ক্ষেত্রেই অংশগ্রহণ করেননি তাঁরা। এমনকি, নিজের বিধানসভা এলাকার বিষয়েও তাঁরা অধিবেশনে কোনও প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি করা এই তালিকার যেমন দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক রয়েছেন, তেমনই আছেন নতুন বিধায়করা। সামগ্রিক বিষয়টি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। সূত্রের খবর, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দেওয়ার আগে দল বিধায়কদের পারফরম্যান্সও আতশকাচের তলায় রাখবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আবহে একাধিক সংস্থা আরটিআই করে বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে জানতে চেয়েছে, কোন বিধায়ক কত দিন হাজির ছিলেন অধিবেশনে। বিধানসভায় কতগুলি প্রশ্ন করেছেন তিনি, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জানুয়ারি মাস থেকেই বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তোড়জোড় শুরু হয়ে যাবে। শাসক-বিরোধী সব পক্ষ পুরো মাত্রায় নেমে পড়বে নির্বাচনি প্রচারে। এখন রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। এই প্রক্রিয়ায় নজরদারির জন্য দলীয় বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাংগঠনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পিকনিক হবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর। এখন মূল লক্ষ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখা এবং মানুষের পাশে থাকা।
এই আবহে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে বিধায়কদের পারফরম্যান্স। গত পাঁচ বছরে বিধানসভায় উপস্থিতির হার কেমন, কতগুলি বিষয়ের উপর বক্তব্য বা প্রশ্ন রেখেছেন, ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিল বা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন কি না—এরকম নানা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা চলছে। জানা গিয়েছে, ৫০ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক একদিনের জন্যও বিধানসভায় ‘মুখ খোলেননি’। অর্থাৎ একটি প্রশ্ন করেননি এবং কোনও আলোচনায় অংশ নেননি। ‘তারকা’ বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা গত পাঁচ বছরে বিধানসভার অধিবেশনে যোগ্যতার পরিচয় দেননি। আবার উপ নির্বাচনে জিতে আসা এক চিত্রতারকা স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজের যোগ্যতার ছাপ রেখেছেন—এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে। টিভির পর্দায় যাঁদের প্রায়শই দেখা যায়, সেরকম পরিচিত মুখ তথা বিধায়ক গত পাঁচ বছরে বিধানসভায় একবারের জন্যও মুখ খোলেননি, সেই উদাহরণও আছে।
বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ থাকে, বিধায়করা আসবেন আর চলে যাবেন, শুধু হাজিরা খাতায় সই করবেন, এটা যেন না হয়। বিধানসভায় এসে মানুষের কথা তুলে ধরুন। এরপরও যাঁরা ‘মুখ বুজে বসেছিলেন’, তাঁদের নামের তালিকা তৃণমূল তৈরি করছে বলে খবর। ওই বিধায়কদের জন্য দলের অন্দরেই প্রশ্ন, ‘আর কবে মুখ খুলবেন? পাঁচ বছরের মেয়াদ তো প্রায় শেষ।’