নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরে বসে দলের কৃষক সংগঠনের নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে গেলে কৃষকদের সঙ্গে মাঠেঘাটে পড়ে থাকতে হবে। কৃষকদের বাড়ি যেতে হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরে বসে দলের কৃষক সংগঠনের নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে গেলে কৃষকদের সঙ্গে মাঠেঘাটে পড়ে থাকতে হবে। কৃষকদের বাড়ি যেতে হবে।
বুধবার জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের কিষান খেত মজদুর সংগঠনের জেলা সম্মেলনে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে এখন থেকে দলের মূল সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শাখা সংগঠনের নেতৃত্বকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বলে জানান তিনি। দলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে নিয়ে চলার বার্তা দেন পূর্ণেন্দুবাবু।
সম্মেলন মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি জেলায় বেশ কয়েকটি নির্বাচনে আমরা কম ভোট পাচ্ছি। কেন এটা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। যাঁরা বুথে, টাউনে, ব্লকে, জেলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের এর দায় নিতে হবে।
দলের কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধান কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, কর্মাধ্যক্ষ প্রত্যেকের কাজকর্মের উপর নেতৃত্ব নজর রাখছে বলে এদিন প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন পূর্ণেন্দুবাবু। বলেন, অনেকে রয়েছেন, যাঁরা পঞ্চায়েত প্রধান হয়েই নিজেকে ‘মাতব্বর’ মনে করেন। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। ফোন ধরতে চান না। কিন্তু তাঁরা যেন ভুলে না যান, মানুষের জন্য কাজ না করলে তাঁকে বদলে ফেলতে দু’বার ভাববে না দলীয় নেতৃত্ব। বিজেপিতে যাওয়ার নাম করে যদি কেউ দলে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করেন, সে ব্যাপারেও নেতৃত্ব যে কড়া পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না, সেটাও এদিন স্পষ্ট করে দেন রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী।
ভোটের সময় রাজ্য থেকে নেতারা এসে মিটিং মিছিল করবেন, আর জেলা নেতৃত্ব হাতগুটিয়ে বসে থাকবে, এটা চলবে না বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, জেলা নেতৃত্বকে এখন থেকেই পুরোদমে ময়দানে নামতে হবে। সমস্ত শাখা সংগঠনকে নিয়ে মিটিং করে দলকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তার পরিকল্পনা করতে হবে।
বিজেপি কৃষক সমাজকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করে দলের খেত মজদুর সংগঠনের নেতাদের সতর্ক করে দেন পূর্ণেন্দু বসু। বলেন, মনে রাখতে হবে, মহিলারা যেমন উজাড় করে তৃণমূলকে ভোট দেন, তেমনই কৃষকরাও আমাদের ভোটব্যাঙ্কের অন্যতম ভিত্তি।
সেকারণে কৃষকদের যাতে কোনওভাবেই বিজেপি ভুল বোঝাতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলার কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলি সমস্ত কৃষক ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দলের অন্দরে কোনও গোষ্ঠীবাজি চলবে না বলেও এদিন নেতাকর্মীদের সতর্ক করেন পূর্ণেন্দুবাবু।