Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অরণ্যভূমির গড় ধরে রাখতে নয়া কর্মসূচি নিয়ে তৎপরতা তৃণমূলের

ঝাড়গ্রামের চারটি বিধানসভাই তৃণমূলের দখলে। অরণ্যভূমির গড় ধরে রাখতে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। বুথ কমিটি গড়ে তোলার কাজ চলছে।

অরণ্যভূমির গড় ধরে রাখতে নয়া কর্মসূচি নিয়ে তৎপরতা তৃণমূলের
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের চারটি বিধানসভাই তৃণমূলের দখলে। অরণ্যভূমির গড় ধরে রাখতে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। বুথ কমিটি গড়ে তোলার কাজ চলছে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ‘বাংলার সমর্থনের সংযোগ ও বাংলার সমর্থনের সংলাপ’ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। যা নিয়ে জেলা তৃণমূলের অন্দরে তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়নের বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। সমাজের বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করা হবে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূণ ষড়ঙ্গি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে জেলাজুড়ে বাংলার সমর্থনের সংযোগ ও বাংলার সমর্থনের সংলাপ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ জেলায় এসে গিয়েছে। কর্মসূচি ঘিরে প্রস্তুতি চলছে। জেলায় জনসংযোগের এই কর্মসূচির জন্য টিম গঠন করা হবে। প্রতিটি টিমে বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যান ও ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের রাখা হবে। ওই টিমে পাঁচ থেকে ১০ জন সদস্যও থাকবেন। রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ৩৮টিম গঠন করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সমাজের নানাস্তরের শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পরিবেশ ও সমাজকর্মীদের চিহ্নিত করে সম্মানিত করা হবে। রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ১৮০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ২০০ জনকে সাংসদ ও মন্ত্রীরা সম্মানিত করবেন। বাকিদের সম্মানিত করবেন কর্মসূচিতে গঠিত টিমের সদস্যরা। উত্তরীয় পরিয়ে তাঁদের হাতে উন্নয়নের পাঁচালি, বাংলার ১৫ বছরের গৌরবজ্জ্বল রিপোর্ট কার্ড তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজের তালিকা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। টিমের সদস্যরা বুথস্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। জেলা তৃণমূলের নেতার এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরবেন। ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে জেলার আদিবাসী, জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ নথিভুক্ত করেছেন। এলাকার মানুষ কাজ নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট তা জানবেন। এছাড়া অন্য কোনও কাজের দাবি থাকলে তা পঞ্চায়েতের বার্ষিক প্লানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় এসে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি পূরণের সেই শ্বেতপত্র সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একমাসের মধ্যে এই কর্মসূচি শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বের কর্মসূচি কিভাবে পালন করা হবে তার নির্দেশিকা এসে গিয়েছে। জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা সেরে নিয়েছেন। 
গোপীবল্লভপুর-২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি রিঙ্কু পাল বলেন, বাংলার সমর্থনের সংযোগ ও বাংলার সমর্থনের সংলাপ কর্মসূচি ঘিরে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাম আমলে অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মাঠে নেমেছিলেন। মানুষকে উন্নয়নে র বার্তা দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড এবার সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সামাজিক স্তরে যেসব মানুষ অবদান রেখেছেন তাঁদের আমরা সম্মান জ্ঞাপন করব। বিনপুর বিধানসভার বিধায়ক দেবনাথ হাঁসদা বলেন, উন্নয়নের হাত ধরে রাজ্যের সাথে এই জেলার ছবিও বদলে গিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য জেলার প্রতিটি বাড়িতে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়া।

সম্পর্কিত সংবাদ