Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, হাইটবারে ধাক্কা লেগে নবীন শিল্পীর মৃত্যু

বেহালার সেনহাটি থেকে গঙ্গার বাজে কদমতলা ঘাটে ভাসানে যাওয়ার সময় ‘হাইটবার’-এর ধাক্কায় মৃত্যু হল এক সংগীত শিল্পীর। মৃতের নাম উৎসব চট্টোপাধ্যায় (৩২)।

বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, হাইটবারে ধাক্কা লেগে নবীন শিল্পীর মৃত্যু
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেহালার সেনহাটি থেকে গঙ্গার বাজে কদমতলা ঘাটে ভাসানে যাওয়ার সময় ‘হাইটবার’-এর ধাক্কায় মৃত্যু হল এক সংগীত শিল্পীর। মৃতের নাম উৎসব চট্টোপাধ্যায় (৩২)। বেহালার বাসিন্দা উৎসব বাংলা ব্যান্ডের জগতে ড্রামার হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে জিরাট ব্রিজের কাছে।

Advertisement

এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ‘বেহালার সেনহাটি দুর্গোৎসব কমিটির সদস্যরা লরি করে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনের জন্য বাজে কদমতলা ঘাটে যাচ্ছিলেন। লরিটি তখন আলিপুর চিড়িয়াখানা পেরিয়ে জিরাট ব্রিজের মুখে। রাস্তার ধারে বড় বড় গাছ থাকায় উৎসব আঁকশি দিয়ে ওই গাছের ডাল তা সরাতে লরির মাথায় চড়ে বসেছিলেন। সেই সময় ব্রিজের হাইটবারে ধাক্কা লাগলে লরি থেকে ছিটকে পড়েন উৎসব। এমনকী, ওই হাইটবারের ধাক্কায় দুর্গা প্রতিমার মাথাও ভেঙে যায় এবং সেটি এসে পড়ে উৎসবের উপর।’
এই দুর্ঘটনার জেরে থমকে যায় শোভাযাত্রা। গুরুতর জখম উৎসবকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় এস এস কে এম হাসপাতালে। কমিটির কয়েকজন সদস্য ভাঙা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে ফিরে আসেন হাসপাতালে। রাত ২টো নাগাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান উৎসব। বিসর্জনের রাতে এলাকার জনপ্রিয় যুবকের অকাল মৃত্যুতে বিষাদের ছায়া নেমে আসে সেনহাটিতে।
ক্লাব সদস্যদের অভিযোগ, জিরাট ব্রিজের কাছে হাইটবারের সামনে আলো ছিল না। ফলে হাইটবার তাঁদের নজরে আসেনি। এমনকী, ঘটনাস্থলে পুলিশের দেখাও মেলেনি। সাধারণত, ব্রিজ বা ফ্লাইওভারের মুখে হাইটবারে ‘রিফ্লেক্টর’ লাগানো থাকে। যাতে রাতে যানবাহনের আলো পড়লে হাইটবারের উপস্থিতি চালকের নজরে আসে। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, জিরাট ব্রিজের হাইটবারে ‘রিফ্লেক্টর’ লাগানো ছিল না কেন? এর দায় কার? শুক্রবার রাত পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা নিয়ে আলিপুর থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। শোকে বিধ্বস্ত ক্লাব সদস্যরা বলছেন, ‘কারও বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ করতে চাই না! ভাসান উপলক্ষ্যে হাইটবার খুলে দিলে এই মৃত্যু এড়ানো যেত। আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল!’
উৎসবের বাড়িতে বাবা-মা রয়েছেন। বাবা দীর্ঘদিন ধরেই শয্যাশায়ী। উৎসব ‘প্রহর’ নামে একটি বাংলা ব্যান্ড খুলেছিলেন। পাশাপাশি একাধিক নামী ব্যান্ডে ড্রামার হিসেবেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ