Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কুমারীপুজোয় বেলুড় মঠে যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিকে বাড়তি কড়াকড়ি, হাওড়ার দুই মেট্রো স্টেশনে ষষ্ঠীতেই উপচে পড়ল ভিড়

দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের একটি বড় অংশ শামিল হয় বেলুড় মঠের ঐতিহ্যকে চাক্ষুষ করতে। শুধু শহর কলকাতা কিংবা হাওড়া নয়, দূর-দূরান্ত এমনকী, বিদেশ থেকেও ভক্তরা এখানে পুজো দেখতে আসেন।

কুমারীপুজোয় বেলুড় মঠে যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিকে বাড়তি কড়াকড়ি, হাওড়ার দুই মেট্রো স্টেশনে ষষ্ঠীতেই উপচে পড়ল ভিড়
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের একটি বড় অংশ শামিল হয় বেলুড় মঠের ঐতিহ্যকে চাক্ষুষ করতে। শুধু শহর কলকাতা কিংবা হাওড়া নয়, দূর-দূরান্ত এমনকী, বিদেশ থেকেও ভক্তরা এখানে পুজো দেখতে আসেন। বিশেষ করে অষ্টমীতে কুমারীপুজো দেখতে বেলুড়মঠে যে জনসমুদ্র উপচে পড়ে, তা তিলোত্তমার বড় বড় মণ্ডপের জনস্রোতকেও হার মানায়। প্রতি বছরই বেলুড় মঠের এই ভিড় সামলাতে জি টি রোডে যানজট নিয়ে হিমশিম খেতে হয় হাওড়া সিটি পুলিশকে। তাই এবার বেলুড় মঠের কুমারীপুজো উপলক্ষ্যে অষ্টমীতে এই রাস্তায় যান চলাচলে বাড়তি কড়াকড়ি আনছে পুলিশ। অন্যদিকে, সকাল থেকে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলাকে সঙ্গী করেই হাওড়া ময়দান এলাকায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় শামিল হয়েছিলেন বহু মানুষ।

Advertisement

রবিবার যাবতীয় বিধি মেনেই বেলুড় মঠে দেবীর বোধন হয়। এদিন সকালে ঘট স্নান করিয়ে শারদ উৎসবের সূচনা হয় এখানে। যাবতীয় রীতি মেনে হয়েছে দেবীর কল্পারম্ভ অনুষ্ঠান। পুজো দেখতে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রবিবার হওয়ায় জি টি রোডে যান চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। সংকীর্ণ রাস্তা, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, জায়গায় জায়গায় খোলা ভ্যাট, তার উপর বাস, অটো, টোটো, বাইকের ভিড়ে জি টি রোডে একশো মিটার এগতেই নাভিশ্বাস ওঠে আমজনতার। অষ্টমীর সকালে কুমারীপুজো দেখতে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় উপচে পড়ে বেলুড় মঠে। সেই সময় কয়েকশো সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। তাই এবছর কুমারীপুজোকে কেন্দ্র করে জি টি রোডে যান চলাচলে বাড়তি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোর ৪টে থেকে ১ অক্টোবর ভোর ৪টে পর্যন্ত বেলুড় মঠের দিকে জি টি রোডে ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করবে না। নিমতলা ক্রসিং, বালি খাল, বামুনডাঙ্গা আইল্যান্ড, লিলুয়া স্টেশন রোড ক্রসিং, বেলুড় বাজার ক্রসিং থেকে বালির দিকে জি টি রোড ধরে কোনও ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলবে না। তবে এলপিজি, পেট্রলিয়াম, মাছ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের অন্তর্গত গাড়িগুলিকে ছাড় দেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, বালি ও লিলুয়ার দিক থেকে পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে এন এস রোড দিয়ে লিলুয়া ফ্লাইওভারের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে।
এদিন সকাল থেকেই চড়া রোদে রীতিমতো হাঁসফাঁস দশা হয়েছে সাধারণ মানুষের। দুপুরে কয়েক পশলা বৃষ্টি হল। তার মধ্যেই হাওড়া ময়দান এলাকায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে রেডিমেড পোশাক ও জুতোর দোকানে ভিড় করেছিলেন অনেকে। সন্ধ্যার পর শহরের বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় বাড়তে থাকে। এবারের পুজোয় হাওড়া শহরকে টেক্কা দিয়েছে সাঁকরাইল ও ডোমজুড়ের বেশ কয়েকটি বারোয়ারি। লক্ষণীয় ভিড় দেখা গিয়েছে হাওড়া স্টেশন মেট্রো ও হাওড়া ময়দান মেট্রোতেও। শহরতলির অনেকেই উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখতে হাওড়া স্টেশনে নেমে বাসস্ট্যান্ডের দিকে না ছুটে শামিল হচ্ছেন মেট্রো কাউন্টারের টিকিট কাটার লাইনে। শেওড়াফুলির বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া রিমি নাগ, সোহিনী চক্রবর্তী, নেহা সরকার বলেন, ‘প্রতিবার ষষ্ঠীতে উত্তর কলকাতা থেকে ঠাকুর দেখা শুরু করি। এত বছর বাসের ভিড়ে খুব সমস্যা হতো। এখন মেট্রোতে খুব তাড়াতাড়ি শিয়ালদহে পৌঁছে যাব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ