সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: গত বছর ১৮ জুন রাতে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং বনবাংলো। তারপর থেকেই জলদাপাড়ার ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক সেই বনবাংলো নতুন করে নির্মাণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তার কারণ ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী আইন। কারণ, ওই আইনের বলে দেশের কোনও সংরক্ষিত জঙ্গলে কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু রাজ্য বনদপ্তর সেই সংশয়ের অবসান ঘটিয়েছে। পুনর্নির্মাণ হবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ডেস্টিনেশন হলং বনবাংলোর।
হলং বনবাংলো যে ফের আগের আদলেই র্নির্মাণ করা যাবে, তার পিছনে যুক্তি হিসেবে বনদপ্তর জানিয়েছে, এই বাংলো কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। রাজ্যের বন্যপ্রাণ শাখার উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, প্রথমত হলং বনবাংলো থেকে যে আয় হয়, পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকার খরচ করে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বন সুরক্ষা ও ওই বনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে। ফলে বনবাংলো পুনর্নির্মাণে কোনও আইনি বাধা নেই। এই অর্থে হলং বনবাংলো কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। বনবাংলো আগের আদলেই তৈরির জন্য পূর্তদপ্তরে নকশা জমা পড়েছে। এখন শুধু রাজ্য সরকারের সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষা। অনুমতি মিললেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।
হলং নদীর ধারে এই বন বাংলোয় আটটি কাঠের ঘর ছিল। পুনর্নির্মাণের সময় বাংলোর ঘরের সংখ্যা আগের মতো আটটিই থাকবে নাকি বাড়বে বনদপ্তর অবশ্য তা জানাতে পারেনি। তবে বাংলোর আদল হুবহু আগের মতোই রেখে এবার কাঠ, টিন ছাড়াও ইট ও কংক্রিটের মিশেল ব্যবহার করা হবে।
১৯৬৭ সালে তৈরি হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী এই বাংলো। সেটি পুড়ে যাওয়ার পর দেশবিদেশের পর্যটকদের মধ্যে হু হুতাশ শুরু হয়। এমনই মহিমা ঐতিহ্যবাহী এই বন বাংলোর। পুড়ে যাওয়ার পরে ওই বাংলো আগের আদলে তৈরির দাবিতে সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছিল।
বাংলোর পুনর্নির্মাণের খবরে আশার আলো দেখছে পর্যটক ও পর্যটন মহল। ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আমরা চাই আগের মতোই মাথা তুলে দাঁড়াক সবার গর্ব হলং বনবাংলো। আমাদের দাবি, অযথা যেন ঘরের সংখ্যা বাড়ানো না হয়। আগের মতোই নির্জনতার প্রতীক এই বন বাংলোয় যেন আটটি ঘরই থাকে। - ফাইল চিত্র।