নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: বিমান পরিষেবা চালুর দাবিতে সরব মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স। দ্রুত এই পরিষেবা চালুর দাবিতে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে সংগঠনটি। জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, রাজ্য সরকার বিমান পরিষেবা চালু করার জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে।
মালদহ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার দাবিতে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মালদহের গৌড়, আদিনা, পান্ডুয়ায় সাড়ে পাঁচশো থেকে ছ’শো বছরের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। পাল, সেন যুগে তৎকালীন রাজধানী ছিল বর্তমান মালদহের গৌড়ে। শুধু তাই নয়, মহাপ্রভু চৈতন্য দেব থেকে শুরু করে সুলতানি আমলের এক বিশাল ইতিহাস মালদহের সঙ্গে জড়িত। এখানে বিমানবন্দর চালু হলে প্রাচীন ইতিহাসকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প দেশ এবং বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যাবে।
দ্বিতীয়ত, কলকাতা এবং শিলিগুড়ির পর পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মালদহ তৃতীয় ব্যবসায়ীক হাব। যার সঙ্গে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ রয়েছে। এখানে বিমান পরিষেবা চালু হলে মালদহের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের একটা বিশাল অংশের মানুষ উপকৃত হবেন।
বিমান পরিষেবা চালু হলে মালদহ ও আশেপাশের কয়েকটি জেলার মানুষরা চিকিত্সা ক্ষেত্রেও সুবিধা পাবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, চিকিত্সার জন্য কখনও ভিনরাজ্যে যেতে হলে সেক্ষেত্রে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, মালদহে বিমানবন্দর চালু করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। পরিষেবা চালু হলে মালদহের পাশাপাশি দুই দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের মানুষও উপকৃত হবেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ বিমানবন্দর প্রথম চালু হয় ১৯৬২ সালে। সেই সময় এই বিমানবন্দরে শুধুমাত্র ‘কার্গো ফ্লাইট’ ওঠানামা করত। ১৯৮৭ সালে মালদহের তৎকালীন সাংসদ এবিএ গনিখান চৌধুরীর উদ্যোগে ‘বায়ুদূত’ পরিষেবা চালু হয়। অর্থাৎ ছোট ছোট বিমান এখানে ওঠানামা করতে শুরু করে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মালদহবাসী।
মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সহ সভাপতি কমলেশ বিহানী আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, সারা বিশ্বে মালদহ আমের জন্য বিখ্যাত। ফলে এখানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক বছর আগে ভিন রাজ্যের এক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানিকে মালদহে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, শুধুমাত্র বিমান পরিষেবা না থাকার কারণে ওই সংস্থা বিনিয়োগ করতে রাজি হয়নি। ফাইল চিত্র