নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লির তুলনায় এগিয়ে কলকাতা! বায়ুদূষণে রাজ্যের রাজধানী টেক্কা দিল দেশের রাজধানীকে। বুধবার কলকাতার একিউআই (বায়ুদূষণ সূচক) ছিল ২৬৭। ইতিমধ্যে ‘দূষণ নগরী’র তকমা পেয়েছে যে শহর, এদিন সেই দিল্লির একিউআই ছিল ২৫৯। রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বলছে, শীতকালে তাপমাত্রা কমে এলে এটা স্বাভাবিকই। সারা পৃথিবীতে এমনটাই হয়। কিন্তু পরিবেশকর্মীরা তা মানতে নারাজ। তাঁরা দুষছেন পর্ষদকেই।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম আট দিন দিল্লির একিউআই ৩০০-র উপরে থাকলেও মঙ্গলবার ও বুধবার তা ছিল যথাক্রমে ২৮২ ও ২৫৯। তবে কলকাতায় হঠাত্ করে একিউআই এতটা বেড়ে যায়নি। চলতি মাসে শহরের একিউআই ২০০-র বেশি কিংবা তার কাছাকাছি ছিল। মঙ্গলবার ছিল ২৭২। বুধবার হয় ২৬৭। কলকাতার মধ্যে ভিক্টোরিয়া চত্বর, যাদবপুর এলাকায় একিউআই অনেকটা বেড়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলছিলেন, ‘অ্যাটমসফিয়ারিক সিঙ্ক হলে এটাই হয়। হাওয়ার গতি নেই, তাপমাত্রা কমে গিয়েছে। এটা হতে বাধ্য। পৃথিবীর কোনও প্রযুক্তি দিয়ে ঠিক করা যায় না। হাওয়ার বেগ কমে গিয়েছে। তার ফলে প্ল্যানেটারি বাউন্ডারি নীচে নেমে এসেছে। উপরে যে ধুলিকণা ভাসছিল, সেগুলোও নীচে নেমে এসেছে। বিশ্বের সর্বত্র এই ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না।’ এই যুক্তি মানতে নারাজ পরিবেশ কর্মীরা। তাঁদের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কিছুই করছে না। আর তার জন্যই কলকাতার বাতাসের এই অবস্থা। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর এমনটা হচ্ছে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না পর্ষদকে।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধুই যে নির্মাণকাজ বা যানবাহন চলাচলের কারণে এমনটা হচ্ছে, তা নয়। শীতের সময় আগুন জ্বালিয়ে রাখা সহ একাধিক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত আছে বলে মনে করছেন তাঁরা। পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলছিলেন, ‘শীতের শুরুতেই এবার তাপমাত্রা অনেকটা কমে গিয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা অনেক কম। ধূলিকণা নেমে আসছে। এটা হঠাত্ বেড়ে যায়নি। শুষ্ক আবহাওয়ার জন্যই একিউআই বেড়ে যায়। তাছাড়া, উত্তুরে হাওয়ার গতি কম থাকায় ধূলিকণা একটা জায়গায় থাকছে অনেক্ষণ। বাতাসের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও জায়গায় সেটা মাত্রাতিরিক্ত।’ তবে শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির একমাত্র কারণ নয়। স্বাতীদেবীর কথায়, ‘স্থানীয় বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে আমাদের শহরে বায়ুদূষণ আরও বাড়তে থাকবে। যেমন, শীতের সময় অনেকে গাড়ি নিয়ে সপরিবারে বা সবান্ধব ঘুরতে বেরন। ফলে রাস্তায় গাড়িঘোড়ার একটা বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে কার্বন ফুটপ্রিন্ট। এটাও এই সময় বায়ু দূষণের বাড়বাড়ন্তের একটা অন্যতম কারণ।’