


আনন্দ সাহা, লালবাগ: প্রতি বছরই সাবেক নবাবি মুলুক মুর্শিদাবাদে বাংলা নববর্ষে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নবাবের শহরে মানুষের ঢল নেমেছে। বাংলা বছরের প্রথম দিনে পর্যটক টানতে শহরের হোটেল, রেস্তরাঁ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সেজে উঠেছে। হোটেল ও রেস্তরাঁয় নববর্ষ স্পেশাল থালির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পর্যটনের শহর মুর্শিদাবাদ। এখানকার পরতে পরতে নবাব ও জমিদারদের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ভাগীরথীর দুই পাড়ে নানা স্থাপত্য-ভাস্কর্য নিদর্শন ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। এই ইতিহাসের টানে দেশবিদেশের পর্যটকরা মুর্শিদাবাদে বেড়াতে আসেন। বিশেষত পুজো ও শীতের মরশুমে পর্যটক সমাগম বেশি হয়। এছাড়া, বড়দিন, নিউ ইয়ার, প্রজাতন্ত্র দিবস, ঈদে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে।
সম্প্রতি ঈদে এপ্রিল মাসের প্রথম তিনদিন এশহরে পর্যটকদের ঠাসা ভিড় ছিল। পর্যটন মহলের দাবি, তিনদিনে লক্ষাধিক মানুষ মুর্শিদাবাদ বেড়াতে এসেছিলেন। সেইসঙ্গে গত কয়েকবছর ধরে বাংলা নববর্ষেও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিজামত কিল্লা এলাকার এক খাবারের হোটেলের ম্যানেজার বলেন, এসময় মূলত জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভিড় বেশি হয়। গত তিন-চারবছর ধরে নববর্ষে ভিড় হওয়ার ট্রেন্ডটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বাংলা নববর্ষেও এখন ভালো ব্যবসা হয়।
এক রেস্তরাঁর কর্নধার বলেন, পর্যটকদের পাশাপাশি শহরের অনেক বাসিন্দাও এই বিশেষ দিনে বাইরে খাওয়াদাওয়া করতে পছন্দ করেন। সেজন্য নববর্ষে বাঙালি ঘরানার খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল আইটেম রাখা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, বাঙালি জীবনে নববর্ষ একটি বিশেষ দিন। ফলে এই দিনে অনেকেই নবাবের শহরে ঘুরতে আসছেন। কয়েকবছর ধরে নববর্ষে বহু পর্যটক মুর্শিদাবাদে আসায় বিভিন্ন পেশার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। -নিজস্ব চিত্র