


পরামর্শে বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুণ মাঙ্গলিক।
শিশু ও কিশোর কিশোরীদের মধ্যেও দু’টি ভাগ রয়েছে। ১) উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের ও শিশু ও কিশোর-কিশোরী ২) নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শৈশব ও স্কুলবেলা। প্রথমভাগের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের গরমের মধ্যে খুব একটা থাকতে হয় না। তাদের বেশিরভাগেরই বাড়ি, স্কুল সর্বত্রই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হয়। বরং গরমের শিকার বেশি হয় দ্বিতীয় ভাগের ছেলেমেয়েরা। মারাত্মক গরম পড়লে তাই সন্তানের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখুন। গ্রীষ্মে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ঘাম হয় বলে তাদের শরীর থেকে নুন ও জল বেরিয়ে যেতে থাকে। ফলে হিট স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমন হলে ঠান্ডা পরিবেশে নিয়ে গিয়ে ওআরএস খাইয়ে তাদের সুস্থ করুন আগে। মাথা, ঘাড় জলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন। এই সময় হতে পারে ডিহাইড্রেশন। তাই গ্রীষ্মে সন্তানকে সুস্থ রাখতে কিছু নিয়ম অবশ্যই মানুুন— • সন্তানের শরীরে যাতে জলের অভাব না হয়, তাই শিশুদের কিছু সময় অন্তর জল পান করান। নবজাতকরা যেন মাতৃগ্ধ পেট ভরে খায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। • শিশুর অন্তত দিনে পাঁচবার প্রস্রাব হওয়া প্রয়োজন। নইলে জলের অভাব তৈরি হচ্ছে বলে বুঝতে হবে। • খুব ঘাম হলে বারবার গা-হাত-পা ভিজে গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিন। বাইরে বেরলে ভিজে রুমাল ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘাম বসে যেন ঘামাচি না হয়। • বাইরের কাটা ফল ও শরবত দেবেন না। বাড়ির ফল ও শরবত খেতে দিন। নুন-চিনি-লেবুর শরবত, ডাবের জল রোজ ডায়েটে রাখুন। • জল বেশি আছে এমন ফল যেমন শসা, তরমুজও খেতে হবে। • প্রখর গরমের দিনে দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টে অবধি সন্তানকে চড়া রোদে বের করবেন না। প্রয়োজনে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। • বাইরে বেরলে বা স্কুল-টিউশনে যাওয়ার সময় যেন ব্যাগে ছাতা, জলের বোতল, ইলেকট্রোলাইট পাউডারের পাউচ থাকে। • এই সময় সন্তানকে নরম সুতির পোশাক পরান।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়