Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫ টাকার ক্রিম ওপারে ৪০ টাকা, এক ধাক্কায় আটগুণ মুনাফা, ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজারের সীমান্ত পেরনো শুরু

৫ টাকার ক্রিম ওপারে ৪০ টাকা, এক ধাক্কায় আটগুণ মুনাফা, ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজারের সীমান্ত পেরনো শুরু
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: শীত পড়তেই ময়েশ্চারাইজার ও ক্রিমের পাচার শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ওপার বাংলায় পাচার হচ্ছে ছোট ছোট ক্রিমের কৌটো। দু’টি বিশেষ ব্র্যান্ডের পাঁচ টাকার ময়েশ্চারাইজারের কৌটো ওপারে গেলেই দাম হয়ে যাচ্ছে ৪০ টাকা। এক ধাক্কায় আটগুণ মুনাফা হচ্ছে পাচারকারীদের। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় গ্রামবাসীরাও পাচারের কাজে নেমেছে। জালঙ্গি সীমান্তের ঘোষপাড়া ও চর পরাশপুরের কিছু কিছু গ্রামবাসী শহরের দোকান থেকে ক্রিম কিনে এনে বাড়িতে জমিয়ে রাখছে। তারপর সুযোগ বুঝে সকালে কিংবা সন্ধ্যার সময় ওপার বাংলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে মোড়া থাকছে গ্রাম। সীমান্তে টহলরত বিএসএফের নজর এড়িয়ে সহজে খোলা সীমান্ত দিয়ে ওপারে চলে যাচ্ছে পাচারকারীরা। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপশি এখন পাচারের দ্রব্য হিসেবে ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজার খুবই জনপ্রিয়। 
Advertisement
গত কয়েকদিনে সীমান্ত এলাকার পার্শ্ববর্তী বাজারগুলিতে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্রিম বিক্রি শুরু হয়েছে। পাঁচ ও দশ টাকা দামের কৌটোগুলির চাহিদা সবথেকে বেশি। একসঙ্গে কেউ ১০-১২টি করে ক্রিম কিনে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। বাজারে এলেই ঘরের আনাজপত্রের সঙ্গে প্রায় প্রত্যেকেই ক্রিম কিনছেন। ব্যাগের মধ্যে দিয়ে বিএসএফের আউট পোস্ট হয়ে সীমান্তের গ্রামে ঢুকছে এই ক্রিম। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী হওয়ায় সেভাবে আটকাতেও পারছেনা বিএসএফ। কুয়াশার আড়ালে খুব ভোরে ও সন্ধ্যার দিকে গ্রামবাসীরা খুব সহজেই মাঠ পেরিয়ে ওপারে চলে গিয়ে দিয়ে আসছে এই ক্রিম। অনেক সময় গ্রামের ছোট ছেলেমেয়েদের এই কাজে লাগানো হচ্ছে। ফলে উদ্বিগ্ন বিএসএফের আধিকারিকরা। 
জলঙ্গি সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত এক বিএসএফ জওয়ান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রতিদিনই মানুষ বাড়িতে কিনে নিয়ে যায়। এগুলি গ্রামে ঢোকার আগে আউটপোস্টে আটকাতে গেলেই আমাদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সমস্যা তৈরি হয়। গ্রামের মানুষের বোঝা উচিত যে, সামান্য অর্থের জন্য কোনও অনৈতিক কাজ করা ঠিক নয়। 
রবিবার ঘোষপাড়ার এক বাসিন্দা জলঙ্গি বাজার থেকে বেশ কিছু ক্রিমের কৌটো কিনছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামে এক মহিলার মুদির দোকান রয়েছে। আমি বাজারে আসছি বলে কয়েকটি ক্রিমের কৌটো নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে। এলাকার লোকজন বাড়ির পাশের ওই গ্রামের দোকান থেকে টুকটাক জিনিস কেনে। তাই তার দোকানে এই ক্রিম বিক্রি করবে। আমি নায্য দামেই এগুলি তাঁর হাতে তুলে দেব। 
যদিও বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, সীমান্তের বাসিন্দারা মাঝে মধ্যেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মশালা, চিনি ও বিভিন্ন ওষুধপত্র কিনে নিয়ে যায়। আমরা আউটপোষ্টে চেকিং করার সময় আটকালেই নানা অজুহাত দিতে শুরু করে। ইদানিং ক্রিম ও ময়েশ্চারাইজার কিনতে শুরু করেছে। এক একজন এক একরকম কারণ বলছে। আমাদেরও আটকাতে সমস্যা হয়। তবে গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, অনেকেই অসাধু উপায়ে এই ক্রিম ওপারে পাচার করছে। এক একটি পাঁচ টাকার কৌটো ওপারে ৩০-৪০ টাকা দামে বিক্রি হয়। তাই ক্রিমের এত চাহিদা।
সম্পর্কিত সংবাদ