Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৪ টাকা কেজি দরে আলু যাচ্ছে অসমে, উত্তরবঙ্গে দাম ৪০ টাকা!

২৪ টাকা কেজি দরে আলু যাচ্ছে অসমে, উত্তরবঙ্গে দাম ৪০ টাকা!
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গ থেকে ২৪-২৬ টাকা কেজি দরে লরি বোঝাই হয়ে আলু যাচ্ছে উত্তরপূর্ব ভারতে। অথচ, উত্তরের বাজারে সেই জ্যোতি আলুই বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে! এনিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গে উৎপাদিত আলু কমদামে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছে, অথচ সেই আলুই চড়া দরে কিনে খেতে হচ্ছে তাঁদের। প্রশাসন বাজারে হানা দিলেও সাধারণ মানুষের কোনও সুরাহা হচ্ছে না।
Advertisement
উত্তরবঙ্গ থেকে অসম, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা সহ গোটা উত্তর ভারতে এখনও আলু যাচ্ছে। হিমঘর থেকে বের করে সেই আলু শুকিয়ে রপ্তানির সময় দাম দাঁড়াচ্ছে কেজি প্রতি ২৪-২৬ টাকা। কিন্তু সেই আলুই খুচরো বাজার থেকে কেন ৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তা নিয়ে জবাব নেই আলু ব্যবসায়ীদের কাছেও। অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আলু নিয়ে কালোবাজারি চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে রাজ্য সরকার আলু রপ্তানির উপর কড়াকড়ি করেছিল। সেসময় উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের হিমঘরে যে পরিমাণ আলু মজুত ছিল, তার প্রায় পুরোটাই বেরিয়ে যায়। এখন সেখানে আলুর হিমঘর ফাঁকা। ফলে বাজারে বেশ ভালো পরিমাণ চাহিদা রয়েছে আলুর। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা।
তবে, উত্তরবঙ্গে হিমঘরে মজুত আলুর পরিমাণ এখন প্রায় তলানিতে। ১০ শতাংশের মতো আলু মজুত রয়েছে। বাকিটা বীজআলু। ফলে সরকারি নির্দেশ মেনে যদি ৩০ নভেম্বর হিমঘর ফাঁকা করে দিতে হয়, সেক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গে খুব বেশি আলু থাকবে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, এবার এখনও উত্তরবঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে জোগান নেই নতুন আলুর। বৃষ্টির জেরে চাষ পিছিয়ে যাওয়াতেই নতুন আলু বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। যেটুকু আসছে, তারও দাম চড়া। সোমবার জলপাইগুড়ির দিনবাজারে নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। এদিকে, শিলং থেকেও কিছু আলু ঢুকতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গে। কমবেশি পাঞ্জাব ও রাঁচির আলুও ঢুকছে।
উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাবলু চৌধুরী বলেন, আমাদের এখান থেকে উত্তরপূর্ব ভারতে ২৬ টাকা কেজি দরে জ্যোতি আলু যাচ্ছে। এখানকার আলু বাইরে যাবে না, এই মানসিকতা বদলাতে হবে। রাজ্যে যতটা আলু উৎপাদন হয়, তা তো খেয়ে শেষ হওয়ার নয়। সেক্ষেত্রে আলু ফেলে দিতে হবে। তাঁর তোপ, রসুন, পেঁয়াজ, অন্যান্য সব্জির দাম চড়লে কোনও কথা হয় না। শুধু বেছে বেছে আলুকে টার্গেট করা হয়। প্রশাসনের থেকে আমাদের উপর চাপ দেওয়া হয়। এভাবেই আলু শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
ধূপগুড়ি আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক জগদীশ সরকার বলেন, ২৪ টাকা কেজি দরে অসমে আলু যাচ্ছে। তবে হিমঘরে আর বেশি আলু নেই। খুচরো বাজারে দাম কেন বেশি প্রশাসনই বলতে পারবে।
সম্পর্কিত সংবাদ