নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ২ টাকার কেনাকাটায় ১০ টাকার ডিটারজেন্ট ফ্রি। অস্থায়ী হাটে পুরনো জামাকাপড় বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ টাকাতে। খবর পেয়ে উপচে পড়ছে ভিড়। আট থেকে আশি সকলে হাজির হয়ে পছন্দের জিনিসপত্র কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। মার্শাল আর্ট ট্রেনার বুদ্ধিশ্বর মণ্ডলের পুরনো জামাকাপড় বিক্রির এই উদ্যোগ বেশ নজর কাড়ছে বীরভূম জেলায়। অনেকেই তাঁকে বাড়িতে ডেকে পুরানো পোশাক দিচ্ছেন।
Advertisement
বুদ্ধিশ্বরবাবুর বাড়ি বোলপুরের পূর্ব বাহাদপুরে। সিউড়ি, রামপুরহাট, বোলপুরে মার্শাল আর্ট শেখান। আর মনের ইচ্ছে বলতে অসহায় মানুষজনকে জামা-কাপড় তুলে দেওয়া। তবে নতুন জামা দেওয়ার সামর্থ নেই। তাই গত দু’ বছর ধরে তিনি পুরনো জামাকাপড় বাড়ি বাড়ি সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। তাঁর কাছে মার্শাল আর্ট শিখতে আসা ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের থেকে পুরনো জামা-কাপড়, প্যান্ট, খেলনা সবকিছুই সংগ্রহ করে আনেন। পরে তা ধুয়ে শুকোন। রবিবার বোলপুরের সাহেবডাঙার ক্যানেলপাড়ের কাছেও তিনি এমনই একটি হাট বসিয়েছিলেন। ক্যানেল পাড়ে দড়ি দিয়ে একের পর এক জামা, প্যান্ট ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে আশপাশের ৫টি গ্রামের মানুষজন সেখানে হাজির হন। তাঁরা নেড়েচেড়ে জামাকাপড় দেখেন। পরে ২ টাকা দিয়ে তা কিনে নিয়ে যান। বুদ্ধিশ্বরবাবুর এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়াচ্ছে গোটা জেলাতেই। তিনি বলেন, গত ২ বছর ধরে এই হাট বসাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায়। আগে থেকে গ্রামে গ্রামে প্রচার করে দিই। এদিন ৫টি গ্রাম থেকে লোকজন এসেছিল। ৩০০ থেকে ৪০০ জন হাজির ছিলেন। বেশিরভাগ বাচ্চাদের বিনামূল্যেই জামা, কাপড়, খেলনা দিয়েছি। যে টাকাটা উঠে এল তা দিয়ে ফুটবল, পড়াশোনার সরঞ্জাম কিনে এইসব বাচ্চাদেরই দেব। ২ টাকা নিই এই কারণে যাতে কেউ বলতে না পারে আমি দান করছি। আর সেই সঙ্গে ১০ টাকার একটি ডিটারজেন্টের প্যাকেট বিনামূল্যে দিচ্ছি। যাতে পুরনো জামাগুলি বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আরেকবার ধুয়ে কেচে পরতে পারে। অনেকেই একবার, দু’বারের পর আর জামা ব্যবহার করেন না। কিন্তু সেগুলি খুব ভালোভাবে পরা যায়। আমি কেবল সেই যোগাযোগের কাজটি করছি মাত্র।



