নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও আন্দুল রোডকে যুক্ত করেছে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যারি রোড। ঘিঞ্জি, সংকীর্ণ এই পথই এখন হাজারো গাড়ির যাতায়াতের একমাত্র শর্টকাট রুট। ফলে প্রতি মুহূর্তে তীব্র যানজটে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া থেকে ব্যবসায়ীরা। এই যানজটকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত করে তুলছে পদ্মপুকুর রেল ক্রসিং। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অতিরিক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়েও যানজট সামলাতে পারছে না পুলিশ।
আন্দুল রোড থেকে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে যাওয়ার জন্য সকাল থেকেই এই রাস্তায় ছোট ও মাঝারি পণ্যবাহী লরির সারি লেগে থাকে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় অসংখ্য টোটো, অটো ও বাইক। জাতীয় সড়ক থেকে নেমে পদ্মপুকুর রেলগেট পার হতে গেলেই পড়তে হয় গাড়ির দীর্ঘ লাইনে। কয়েক মিনিট পরপরই ট্রেন চলাচলের জন্য নামানো হয় রেলগেট। শালিমার স্টেশন থেকে এখন অনেক বেশি এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ে। তার উপর রয়েছে মালগাড়ি ও লোকো।
যে কারণে কার্যত তিন মিনিট অন্তর বন্ধ করতে হয় রেলগেট। তাছাড়া ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল করায় গেট খোলার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ফলে রেলগেটের দু’পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে যানবাহন। বাইক, অটো, টোটো, সাইকেল ও পণ্যবাহী গাড়ির ভিড়ে তখন গোটা রাস্তাই অচল হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর ক্যারি রোড ক্রসিং থেকে আন্দুল রোড পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। ট্রাফিক পুলিশের দাবি, পর্যাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ার থাকা সত্ত্বেও যানজট নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘রেলগেট যেভাবে কিছুক্ষণ পরপর নামানো হয়, তাতে জট কমার উপায় নেই। পণ্যবাহী লরিগুলিকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পুলিশকে।’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর দাবি, রেল ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস তৈরি করা হোক। এদিকে, রেলের তরফেও নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। রেলগেট নামানো থাকলেও পাশের ফাঁকা অংশ দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন সাইকেল ও বাইক আরোহীরা। ফলে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পদ্মপুকুর রেলগেটের যানজট রুখতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে আন্ডারপাস তৈরি করতে হবে। নাহলে হাওড়া সিটি পুলিশকে যান নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নিজস্ব চিত্র