নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ মঙ্গলবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার কিছু জায়গায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের আরো কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি হতে পারে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, সোমবার ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার কয়েকটি জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়। সোমবার সন্ধ্যা-রাতের দিকে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কোনো কোনো জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ ঢুকে পড়তে পারে। তার থেকে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম প্রভৃতি জেলায়।
তবে দক্ষিণবঙ্গের বেশি অংশ জুড়ে ঝড়বৃষ্টির অধিক সম্ভাবনা রয়েছে আজ মঙ্গলবার। কলকাতা ছাড়াও দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও দুই মেদিনীপুর জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে আজ। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে নদীয়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান জেলার কোনো কোনো স্থানে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলার কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় চতুর্থ সপ্তাহ থেকে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত রাজ্যে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টি হয়ে থাকে। চলতি বছরে রাজ্যে এই প্রথম ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রথম দফাতেই খুব জোরালো মাত্রায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কতটা শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হবে তার উপরই ঝড়বৃষ্টির মাত্রা নির্ভর করছে। রেডার চিত্র বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টা আগে এই ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর নির্দিষ্ট পূর্বাভাস জারি করে থাকে।
ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ হল—বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প আবহাওয়া মণ্ডলে ঢুকছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপও আছে। এই কারণে বঙ্গোপসাগরের উপর বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভূপৃষ্ঠে উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বর্জগর্ভ মেঘ তৈরির জন্য অনুকূল। তবে তবে যেসব জেলার জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে সেখানে সব জায়গাতেই যে ঝড়বৃষ্টি হবে, এমন কথা নেই। যেখানে মেঘ সৃষ্টি হবে ঝড়বৃষ্টি হবে মূলত সেখানেই।
দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। দক্ষিণবঙ্গে এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কল্যাণীতে—১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরুলিয়াতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একই ছিল। উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকা বিশেষ করে হিমালয় সংলগ্ন জয়গাগুলো তুলনামূলকভাবে শীতল আছে। জলপাইগুড়ির পুন্ডিবাড়িতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিং পাহাড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫.৮ ডিগ্রি ছিল। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মোটামুটি ১৭ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে আছে। কলকাতায় সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। সর্বজনীন তাপমাত্রা ছিল ২০. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা স্বাভাবিকের থেকে ১.১ ডিগ্রি বেশি।