নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরেই বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাকে একটি টাকাও দেয়নি মোদি সরকার। এই অবস্থায় সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে ১,১৭৪ কোটি টাকা খরচ করে ৩৩৬টি স্কিম হাতে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে সেচদপ্তর। যার মধ্যে ২১০টিরও বেশি প্রকল্পের ডিপিআর তৈরির কাজ প্রায় শেষ। বাঁধ নির্মাণ এবং মেরামতির কাজ চলছে জোরকদমে। পাশাপাশি বর্ষা পরিস্থিতি সামলাতেও আগেভাগে মাঠে নেমেছে রাজ্যের সেচদপ্তর। ইতিমধ্যেই ত্রিস্তরীয় কন্ট্রোল রুম চালুর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ১৯২টি ব্লকে থাকবে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। বিপর্যয় মোকাবিলা, শিক্ষা, খাদ্য, পুলিস এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখতে সেচদপ্তর তৈরি রেখেছে বিশেষ দল। এসবের মধ্যেই আজ, বৃহস্পতিবার বর্ষা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক হতে চলেছে বিধাননগরের জলসম্পদ ভবনে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। আবহাওয়া দপ্তর, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের মতো একাধিক সংস্থার প্রতিনিধিদেরও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা।
সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্যার অভিজ্ঞতা থেকেই রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়া নিয়ে বৈঠকে কড়া মনোভাব প্রকাশ করবে রাজ্য। একলপ্তে জল না ছেড়ে, ধীরে ধীরে জল ছাড়ার কথা ফের একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে। এছাড়াও, সময় মতো তথ্য আদানপ্রদানেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সেচদপ্তরের মুখ্য কার্যালয় জলসম্পদ ভবনে থাকছে সেন্ট্রাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। জলপাইগুড়ি, মালদহ, দুর্গাপুর এবং মেদিনীপুরে থাকছে চারটি রিজিওনাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। এছাড়াও সমস্ত জেলায় ছড়িয়ে থাকবে ৩৩টি ডিভিশনাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম। যেগুলি ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দিনরাত চালু থাকবে। এই সমস্ত কন্ট্রোল রুমের নম্বর সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে সেচদপ্তর। এছাড়াও কলকাতা পুর এলাকার বিভিন্ন পাম্পিং স্টেশনের নম্বরও দেওয়া হবে। কলকাতার জন্য পৃথক নোডাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার এক অফিসারকে। যেসব ব্লকে বিগত বছরে বেশি ক্ষতি হয়েছে, তেমন ১৯২টি ব্লককে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটিতেই থাকছে একটি করে কিউআরটি। যাতে থাকবেন একজন করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বাধীন একটি দল।