নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিসের চোখ এড়াতে বারবার ডেরা বদল। শুধু তাই নয়, সিম কার্ডও ঘনঘন বদলে ফেলত তারা। কিন্তু এসব করেও শেষরক্ষা হল না। বড়বাজারের সিনাগগ স্ট্রিটের এক অফিস থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় বিহার থেকে ধরা পড়ল তিন দুষ্কৃতী। ধৃতদের মধ্যে একজন আবার ওই সংস্থারই এক প্রাক্তন কর্মী। পরিকল্পনা করেই তারা যে টাকা লুট করেছিল, তা মোটিভ দেখেই স্পষ্ট বলে মনে করছে লালবাজার। খোয়া যাওয়া টাকার অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগ, মার্চ মাসের গোড়ায় সিনাগগ স্ট্রিটের একটি অফিস থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। ওই অফিসের এক কর্মীকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। যাওয়ার সময় তারা তাঁর হাত বেঁধে দিয়ে যায়। দুষ্কৃতীদের ঢোকা-বেরনোর ছবি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। বড়বাজার থানায় অভিযোগ হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। লুটের ধরন দেখে প্রথম থেকে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। দেখা যায়, দুষ্কৃতীদের দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। তারপর তারা বিনা বাধায় ভিতরে ঢুকছে। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাদের কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না। সেখান থেকেই অফিসাররা সন্দেহ করেন, দুষ্কৃতীদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে, যার এই অফিসে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। তাই তাকে দেখে গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে নেমে অফিসাররা অফিসের সব কর্মী ও সেখানে যাতায়াতকারীদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন। তাঁদের কল লিস্ট পরীক্ষা করা হয়। এমনকী, প্রাক্তন কর্মীদের তালিকাও তৈরি করা হয়। সেই তালিকা থেকেই একজনকে চিহ্নিত করে তার উপর নজরদারি শুরু করে পুলিস। জানা যায়, সেই প্রাক্তন কর্মী বর্তমানে এই বিল্ডিংয়ে অন্য অফিসে কাজ করছে। তার মোবাইলের কল ডিটেইলস থেকে জানা যায়, ঘটনার আগে ও পরে সে নির্দিষ্ট দু’জনের সঙ্গে বারবার কথা বলেছে। এমনকী, গা ঢাকা দেওয়ার পরেও ওই তিনজনের মধ্যে কথা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে জানা যায়, তাদের মধ্যে দু’জন রয়েছে বিহারের দানাপুরে, একজন পাটনায়। এরপর টিম সেখানে পৌঁছে অভিযুক্ত সুমন কুমার, রাজেশ বাজাজ ও সুরজ রাজকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় নিয়ে আসে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টাকা কোথায় রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে তারা জানিয়েছে, এখানে হাওলার টাকা লেনদেন হতো, তা তারা জানত। তাই তারা টাকা লুটের পরিকল্পনা করে।