Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজালির চক্রবর্তী বাড়ির ১২৬ বছরের পুজোকে ঘিরে হাজারো জনশ্রুতি

পুজালির চক্রবর্তী বাড়ির ১২৬ বছরের দুর্গা পুজো জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস। কেউ দেবীর কাছে কিছু মানত করলে তা পূর্ণ হয় বলেও অনেকের বিশ্বাস। একবার এক মুসলমান যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

পুজালির চক্রবর্তী বাড়ির ১২৬ বছরের পুজোকে ঘিরে হাজারো জনশ্রুতি
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: পুজালির চক্রবর্তী বাড়ির ১২৬ বছরের দুর্গা পুজো জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস। কেউ দেবীর কাছে কিছু মানত করলে তা পূর্ণ হয় বলেও অনেকের বিশ্বাস। একবার এক মুসলমান যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তাকে দুর্গার সামনে বসানো হয় এবং দেবীর পায়ের ফুল মাথায় ছোঁয়ানো হয়। পরিবার পুজো দেওয়ার মানত করে। ধীরে ধীরে যুবক সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এখনও প্রতিবছর যষ্ঠীতে এসে দুর্গার কাছে পুজো দিয়ে যান। 

Advertisement

চক্রবর্তী বাড়ির পুজো তিন পুরুষের। সূচনা হয়েছিল ডাঃ উপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে। তিনি হাওড়ার বাগনানের বাইনান গ্রামে থাকতেন। পারিবারিক কারণে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গঙ্গা পেরিয়ে চলে আসেন পুজালি। জমি কিনে বাড়ি এবং মন্দির তৈরি করেন। এরপর শুরু করেন দুর্গা পুজো। এখন যেখানে পুজালির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সেখানেই ছিল উপেন্দ্রবাবুদের জমি বাড়ি ও মন্দির। তাঁর নাতি সুরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, দাদুর সময় যে কাঠামো ছিল সেটি এখনও আছে। এর পরিবর্তন করতে কেউ সাহস করেন না। দাদুর সময় একবার প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার পর কাঠামো গঙ্গার ঘাটে বাঁধা, তিনদিন পর আনার কথা। একদিন ভোরে ঠাকুমা মাখনবালার স্বপ্নে দুর্গা আসেন। বলেন, কাঠামো খুলে অনেক দূর চলে গিয়েছে। নিয়ে আয়। কোথায় গিয়েছে তাও বলে দিয়েছিলেন। ঠাকুরদা 
নৌকা ভাড়া করে গঙ্গায় খোঁজ করেন। অনেক দূরে এক বাঁশবাগানের পাশে দেবীর বলে দেওয়া জায়গায় কাঠামো পাওয়া যায়। এখন পুজোর স্থান বদল হয়েছে। ১১ ওয়ার্ডের রিহ্যাব কোয়ার্টারে পুজো হয়। নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে ভোগ রান্না করে সবাই। দাদুর সময়কালের পুরোহিতদের বংশধররাই এখনও পুজো করেন। প্রতিমা তৈরি, চোখ আঁকা ও গয়না তৈরি প্রথা মেনে হয়। এখন পরিবারের ২৯ জন সদস্য আছেন। পুজোর ক’দিন  ভোগ খাওয়া থেকে দুর্গার কৃপালাভে সকলে একজোট হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ