Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জলের পাইপ সরাতেই হাজার কোটি!, খরচ কে বইবে? বরানগর-বারাকপুর মেট্রোর জট কাটাতে কাল বৈঠক

বরানগর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা দীর্ঘদিনের

জলের পাইপ সরাতেই হাজার কোটি!, খরচ কে বইবে? বরানগর-বারাকপুর মেট্রোর জট কাটাতে কাল বৈঠক
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বরানগর থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা দীর্ঘদিনের। ডানলপ থেকে বারাকপুর চিড়িয়া মোড়—বি টি রোডের নীচে রয়েছে কলকাতা পুরসভার পানীয় জলের একাধিক পাইপলাইন। এর মাধ্যমে পলতা জলপ্রকল্প থেকে পানীয় জল এসে পৌঁছয় টালা ট্যাঙ্কে। মেট্রো লাইনের পিলার বসাতে গেলে একাধিক পাইপলাইন সরাতে হবে। এখানেই জট পাকিয়ে রয়েছে। জটিলতা কাটাতে এবার কলকাতা মেট্রোর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কাল, শুক্রবার পুরসভায় বৈঠক হওয়ার কথা। পুরসভা, মেট্রো কর্তৃপক্ষ ছাড়াও কেএমডিএ, পূর্তদপ্তর, উত্তর ২৪ পরগনা ও বারাকপুরের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে থাকার কথা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, শুধু পাইপলাইন সরাতেই এক হাজার কোটির বেশি টাকা খরচ হতে পারে। ক’টি পাইপলাইন কীভাবে স্থানান্তর সম্ভব, এই বিপুল আর্থিক বোঝা কে বহন করবে—এসব নিয়েই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

Advertisement

প্রস্তাবিত বরানগর-বারাকপুর মেট্রোর লাইনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার। পুরসভার পানীয় জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে খবর, পলতা থেকে টালা পর্যন্ত বি টি রোডের নীচে ছ’টি বড় পাইপলাইন রয়েছে। ৪২ ইঞ্চি থেকে প্রায় ৭২ ইঞ্চি চওড়া পাইপলাইন। এই পথে মেট্রোর পিলার তৈরি করতে গেলে অন্তত তিনটি পাইপলাইন সরাতেই হবে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘যে তিনটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার বদলে দু’টি ৯০ ইঞ্চি চওড়া পাইপলাইন বসানো প্রয়োজন। কিন্তু এতটা চওড়া পাইপ আদৌ বসানো যাবে কি না, গেলেও সেই কাজ কীভাবে হবে, তা নিয়ে মেট্রো ও পুরসভার ভিন্নমত রয়েছে। মাইক্রো-পাইলিং নাকি অন্য কোনও উপায়ে এই কাজ সম্ভব, তা ঠিক করতে ফিজিবিলিটি টেস্টও প্রয়োজন।’ 
মেয়র ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, ‘মেট্রো তাদের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানাবে। ওদের শীর্ষস্থানীয় অফিসাররা আসবেন। পাইপ লাইন সরানোর বিষয়টি যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ।’ 
সংশ্লিষ্ট এক পুর-আধিকারিক আরও একটি সমস্যার তুলে ধরেছেন। ব্রিটিশ আমল থেকে এই পাইপলাইন চালু রয়েছে। এত যুগ জল সরবরাহের ফলে সেগুলির বহনক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এখন পলতা থেকে টালা পর্যন্ত পাইপলাইনের মাঝের কিছুটা অংশে নতুন পাইপ বসানো হলে সর্বত্র জলের চাপ সমান থাকবে না। পলতা থেকে যে জল আসবে, ডানলপ থেকে টালা ট্যাঙ্ক পর্যন্ত পুরনো পাইপলাইন সেই চাপ নাও সামলাতে পারে। তাই পুরসভা মেট্রোকে সম্পূর্ণ পাইপলাইনই বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি হিসেব দিয়ে বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পলতা থেকে টালা পর্যন্ত ৬৪ ইঞ্চি চওড়া একটি নতুন পাইপ পাতা হয়। এর জন্য তখনই ৩০৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। তাহলেই বোঝা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে এই খরচ কোথায় পৌঁছতে পারে! আসন্ন বৈঠকে এসব জটিলতা কাটে কি না, সেটাই এখন দেখার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ