Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিয়ে তথ্যভাণ্ডার গড়ছে মন্ত্রক

অপরাধের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী মোবাইল সেটে নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই পালটে ফেলছে।

এবার মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর নিয়ে তথ্যভাণ্ডার গড়ছে মন্ত্রক
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অপরাধের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধী মোবাইল সেটে নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই পালটে ফেলছে। তাই আইএমইআইয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আইএমইআই ব্লক করে দেওয়ার পরেও প্রযুক্তি বদলে তা অনায়াসে ব্যবহার করছে জালিয়াতরা। একদিকে গ্যাংস্টার, সুপারি কিলার অন্যদিকে আর্থিক বা সাইবার প্রতারকরা যাতে প্রযুক্তি বদলে ব্লক করা মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্যভাবে তৈরি করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেখানে অপরাধ করা বা নতুন উৎপাদন হওয়া সমস্ত মোবাইলের আইএমইআইয়ের তথ্য রাখা থাকবে। সমস্ত তথ্য একটি পোর্টালে আপলোড করতে হবে। বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রয়োজনে এই পোর্টাল থেকে সাহায্য নিতে পারবে।

Advertisement

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, দেশজুড়েই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে সাইবার জালিয়াতির পরিমাণ বিগত কয়েকবছরে হু হু করে বেড়ে গিয়েছে। যে-সমস্ত মোবাইল নম্বর থেকে জালিয়াতরা ফোন করছে তার সূত্রে চিহ্নিত করা হয় হ্যান্ডসেটগুলিকে। সেগুলিকে ব্লক করতে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। তদন্তকারীদের নজরে আসে ওই সেটগুলির সফটওয়্যার বদলে আবার ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু হ্যান্ডসেট ব্লক করার তথ্য রাখার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও ডেটাবেস ছিল না। এই ফাঁক গলে অন্য রাজ্যে মোবাইলের সেটগুলি ব্যবহার হতো। বেশকিছুদিন পর এই সংক্রান্ত তথ্য এসে পৌঁছাত পুলিশের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা চাইছেন অপরাধ বা জালিয়াতির পর প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাতে ওই হ্যান্ডসেট ব্যবহার না করা যায় সেটি পাকাপাকিভাবে ঠেকাতে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই দিল্লি কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটাবেস তৈরির পথে হেঁটেছে। যাতে কোনও অপরাধ ঘটলে এই ডেটাবেস ধরে সংশ্লিষ্ট মোবাইলকে চিহ্নিত করে পাকাপাকিভাবে অকেজো করে দেওয়া যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের নজরে এসেছে, অনেক মোবাইল কোম্পানি তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া হ্যান্ডলসেটের আইএমইআই আবার ব্যবহার করছে নতুন ফোনে। সেটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা এনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কোম্পানিগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে পুরোনো আইএমইআই পুনর্ব্যবহার করা যাবে না। একইসঙ্গে বিভিন্ন সংস্থা বিদেশ থেকে বিক্রি বা টেস্টের জন্য মোবাইল নিয়ে এলে তার আইএমইআই নম্বরও জানাতে হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে। যাতে বিদেশে তৈরি হওয়া মোবাইলের পরিচিতি ভারত সরকারের কাছে থাকে। এমনকি, অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা পুরোনো হ্যান্ডসেট কেনাবচার ব্যবসা করে। পুরোনো সেট কেনার আগে তাদের সরকারি পোর্টাল থেকে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটের বিষয়ে তথ্য যাচাই করিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ সেই মোবাইলের আইএমইআই ব্যবহার করে কোনও অপরাধ বা জালিয়াতি করা হয়েছে কি না সেটা বলে দেবে ওই পোর্টাল। এর জন্য অবশ্য সামান্য ফি দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, ফুলপ্রুফ এই সিস্টেম তৈরি করা গেলে অপরাধ বা জালিয়াতির কিনারা করা অত্যন্ত সহজ হবে। পাশাপাশি পুলিশ ওই পোর্টাল ব্যবহার করায় তারাও সেখান থেকে তথ্য নিয়ে দ্রুত অপরাধীকে ধরতে পারবে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ