নয়াদিল্লি: ইউপিএ জমানা। ডলারের তুলনায় টাকার দামে পতন নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে উঠতে বসতে নিশানা করতেন নরেন্দ্র মোদি। তখন তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। গত ১২ বছর ধরে সেই মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে। অথচ তাঁর আমলে হুড়মুড়িয়ে পড়ছে টাকার দাম। ইতিমধ্যে এশিয়ার সব চাইতে ‘খারাপ পারফর্ম করা মুদ্রা’র তকমা সেঁটেছে কপালে। আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান সংঘাতে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে। বুধবার সর্বকালীন পতন হল টাকার দরে। এবার তা ৯২ টাকার গণ্ডিও ছাপিয়ে গেল। ডলারের নিরিখে একধাক্কায় ৬৭ পয়সা পড়ল ভারতীয় মুদ্রার দর। একটা সময় এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৯২ টাকা ৩৫ পয়সায় নেমে এসেছিল। বাজার বন্ধের সময় তা থিতু হয় ৯২ টাকা ১৬ পয়সায়।
ইরান সংকটের জেরে অশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর এদিন ৩.০৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৯১ ডলার। স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানির আমদানির খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা চড়া মূল্যবৃদ্ধিরই অশনি সংকেত। এই ধাক্কাই টাকার দামকে আরও টেনে নামিয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে। ডলার সূচক ৯৮-এর স্তর পেরিয়ে যাওয়াটাও চাপ বাড়িয়েছে টাকার উপর। মুষড়ে থাকা শেয়ার সূচকে আরও ধস নেমেছে এদিন। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ও ন্যাশন্যাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ১ শতাংশেরও বেশি নেমেছে। আর্থিক অনিশ্চয়তার আবহে এদিনও বাজার খোলামাত্র আছড়ে পড়ে শেয়ার বিক্রির সুনামি।
ধস নেমেছে এশিয়ার অন্যান্য শেয়ার বাজারেও। দক্ষিণ কোরিয়া কোরসি সর্বাধিক ১২ শতাংশ হোঁচট খেয়েছে। জাপানের নিক্কেই, সাংঘাইয়ের এসএসই কম্পোজিট সূচক , হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকেও ছিল ভাটার টান। ইউরোপের বাজার অবশ্য চাঙ্গা ছিল। যদিও মার্কিন বাজারে দেখা গিয়েছে কাঁপুনি।